নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: গোপীবল্লভপুর- ২ ব্লকের বালিপাল গ্ৰামের কেন্দুয়াবুড়িই দুর্গারুপে পূজিত হন। উড়িষ্যার রাজা বালিপাল জঙ্গলের ভিতর দেবী পুজোর সূচনা করেছিলেন। বাগদি সম্প্রদায়ের দেহরী হাতের রক্ত দিয়ে দেবীর আরাধনা করেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: গোপীবল্লভপুর- ২ ব্লকের বালিপাল গ্ৰামের কেন্দুয়াবুড়িই দুর্গারুপে পূজিত হন। উড়িষ্যার রাজা বালিপাল জঙ্গলের ভিতর দেবী পুজোর সূচনা করেছিলেন। বাগদি সম্প্রদায়ের দেহরী হাতের রক্ত দিয়ে দেবীর আরাধনা করেন।
গোপীবল্লভপুর একসময় উড়িষ্যার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুবর্ণরেখা নদীর দু’পাশে ছিল জঙ্গলভূমি। কথিত আছে, উড়িষ্যার রাজা বালিপাল কোনও এক যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পালিয়ে গোপীবল্লভপুরের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। জঙ্গলে পথ হারিয়ে বড় নিম গাছের নীচে বসেছিলেন রাজা। সেইসময় রাজাকে এক জঙ্গলকন্যা এসে নদীর জল ও কেন্দ ফল খেতে দেন। ফল ও জল খেয়ে গাছের নীচে রাজা ঘুমিয়ে পড়েন। পরিশ্রান্ত রাজাকে দেবী স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেন, আমি কেন্দুয়াবুড়ি। আমিই দেবী দুর্গা। এই গাছের নিচে খোদাই করা এক পাথরের মূর্তি রয়েছে। এখানেই আমার পুজো শুরু কর। হারানো রাজ্য আবার ফিরে পাবি। রাজা জঙ্গলের ফল,মূল দিয়ে দেবীর আরাধনা করেন। সেই সঙ্গে জঙ্গলের ভিতরে নিজের গড় তৈরি করেন। পাশে পান স্থানীয় বাগদি সম্প্রদায়ের মানুষকে। এই বালিপাল গ্ৰাম সূদূর অতীতের অলিখিত সেই ঘটনার স্মৃতি আজও বহন করে চলেছে। গ্ৰামের কেন্দুয়াবুড়ির থানে প্রতি মঙ্গল ও শনিবার পুজো হয়। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা পুজো দিতে আসেন। কেন্দুয়াবুড়ি মায়ের থানের এক পাশে রয়েছে দুর্গা মণ্ডপ। সেখানেই স্থায়ী মণ্ডপে হয় মাতৃ আরাধনা। এই মণ্ডপে দুর্গা পুজোর আগে কেন্দুয়া মায়ের পুজো হয়। শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোয় ভোগ রান্না হয় না। বাগদি সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের প্রিয় রাজা বালিপালকে আজও পুজোর সময় স্মরণ করেন। নবমীর দিনে কেন্দুয়া বুড়ির থানে হাজার, হাজার মানুষের সমাগম হয়।
পুরোহিত স্বপন দেহরী বলেন, কয়েক শতাব্দী ধরে আমার পূর্বপুরুষরা কেন্দুয়া মায়ের পুজো করে আসছেন। বিভিন্ন ফল ও আতপ চাল দিয়ে মায়ের পুজো হয়। কেন্দুয়া মাকে হাতের রক্ত দিয়ে সন্তুষ্ট করতে হয়। রাজা বালিপাল দেবীর পুজো করে হারানো রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। এলাকার মানুষের বিশ্বাস, এই দেবীর পুজো দিলে তাঁদের মনোস্কামনা পূরণ হবে। বালিপাল গ্ৰামের বাসিন্দা নিত্যানন্দ নায়িকা বলেন, গোপীবল্লভপুর প্রাচীন কাল থেকে কখনও বাংলা তো কখনও উড়িষ্যার রাজাদের অধীনে ছিল।. সুবর্ণরেখা নদী ছিল দুই রাজ্যের সীমানা। বহু যুদ্ধবিগ্ৰহের সাক্ষী এই এলাকা। বালিপাল ও কেন্দুয়াবুড়িকে নিয়ে এলাকায় নানা জনশ্রুতি আছে। পুজোর সময় কেন্দুয়া বুড়ির থানে দেশ, বিদেশ থেকে বহু মানুষ আসেন। আঞ্চলিক গবেষক মধুপ দে-র কথায়, জঙ্গলমহলের বেশিরভাগ লৌকিক দেব, দেবীর পুজো দেহরী পুজারীরা করেন। এই পুজোও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। -নিজস্ব চিত্র