নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে পাঁচটি গুমটি দোকান এবং একটি আইসিডিএস সেন্টারের একাংশ। রাত পৌনে দু’টো নাগাদ বালির নিমতলায় নিবেদিতা সেতুর নীচে অ্যাপ্রোচ রোডের ধারে আচমকা এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে দোকানগুলি। আগুন ছড়িয়ে পড়ে আইসিডিএস সেন্টারের একটি টিনের ঘরে। খবর পেয়ে দমকলের চারটি ইঞ্জিন প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডে কেউ আহত হননি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান দমকল ও পুলিশের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বস্তি। গভীর রাতে গুমটি দোকানগুলিতে আগুন জ্বলতে দেখে প্রথমে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে। আগুন ক্রমে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভেবে বস্তির বাসিন্দারাই জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে দোকানগুলির ভিতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলিতে একের পর এক বিস্ফোরণ হতে শুরু করে। এতে ওই বাসিন্দাদের ভয় আরও বাড়ে। অনেকেই ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলে। একে একে দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে। তবে আগুন নেভাতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি দমকলকর্মীদের। যদিও নীচ থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে শুরু করলে কিছু সময়ের জন্য নিবেদিতা সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।
যে অস্থায়ী গুমটি দোকানগুলি পুড়ে গিয়েছে, সেখানে চা, গুটকা-সিগারেট বাদেও বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড বিক্রি হতো। রান্নার জন্য সেখানে বেআইনিভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দমকল। পুড়ে গিয়েছে আইসিডিএস সেন্টারের টিনের ঘরের ভিতর রাখা বহু সামগ্রী। আইসিডিএস সেন্টারের সহায়িকা সবিতা ভট্টাচার্য বলেন, শিশুদের জন্য মজুত চাল, ডাল, তেল, নুন সহ প্রচুর খাবার পুড়ে গিয়েছে। নষ্ট হয়েছে ইউনিফর্ম, নথিপত্রও। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।