নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জঞ্জালমুক্ত বালি শহর গড়তে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে পুরসভা। এবার শহরজুড়ে রেজিস্টার্ড ভ্যাটের সংখ্যা কমিয়ে আনতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মোবাইল ভ্যাট বা এফওটি ভ্যান রাখতে উদ্যোগী হয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। ওয়ার্ডের আবর্জনা এনে জমা করা হবে ঢাকনাযুক্ত এফওটি ভ্যানে। সেখান থেকে সেগুলি চলে যাবে ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে। এই কাজের জন্য রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর এই প্রথম বালি পুরসভাকে চারটি এফওটি ভ্যান দিয়েছে।
বালি পুরসভার মুখ্য প্রশাসক তথা বিধায়ক ডাঃ রানা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘চারটি এফওটি ভ্যান আমরা পেয়েছি। উৎসবের মরশুমে আরও চারটি পাব। এই ধরনের মোবাইল ভ্যাট পুরসভার কাছে থাকলে আবর্জনা সংগ্রহের কাজে গতি আসবে।’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের যে সব এলাকায় সবথেকে বেশি আবর্জনা জমে, সেখানে আপাতত এই আটটি এফওটি ভ্যান বা মোবাইল ভ্যাটকে কাজে লাগানো হবে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে ৩৫টি ওয়ার্ডেই একটি করে এফওটি ভ্যান রাখা হবে। ঢাকনাযুক্ত এই ভ্যানগুলিতে ভেজা ও শুকনো আবর্জনা পৃথক করে রাখা যায়। ঢাকনা থাকায় শহরের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যান উপচে আবর্জনা পড়ার সম্ভাবনাও থাকে না। বালি থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে গাড়িগুলিকে বেলুড় স্টেশনের আন্ডারপাস দিয়ে ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ড পর্যন্ত যেতে হয়। ফলে এতদিন বড় গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। এফওটি ভ্যানের উচ্চতা কম হওয়ায় এই সমস্যা এবার মিটতে চলেছে।
মোবাইল ভ্যাট চালুর ফলে শহরজুড়ে রেজিস্টার্ড ভ্যাটের পাশাপাশি ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা ভ্যাটের সংখ্যা কমে আসবে বলে দাবি পুরসভার। বালি পুরসভার অধীনে রয়েছে মোট ১১টি ভ্যাট। এর মধ্যে ছ’টি রয়েছে বেলুড়ে ও বাকি পাঁচটি রয়েছে লিলুয়া এলাকায়। অথচ গত কয়েক বছরে শহরজুড়ে যত্রতত্র গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট বড় ভ্যাট। সংকীর্ণ রাস্তার কোনায় সেই ভ্যাটগুলিতে আবর্জনা জমতে জমতে তৈরি হয়েছে পাহাড়। কোথাও আবার জঞ্জাল গড়িয়ে এসে মিশছে নর্দমার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই আবর্জনা ফেলে আসছেন বাসিন্দারা। পুজোর আগে বেলুড়ের লালবাবা কলেজের সামনে এমনই একটি আবর্জনার পাহাড় সরানোর ব্যবস্থা করে পুরসভা। এদিকে, বালির প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের কথা থাকলেও সেই কাজ আদৌ কতটা হয়, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পুরসভা। বালির আবর্জনার সমস্যা মেটাতে এই কাজে গতি আনতে চাইছে পুর প্রশাসন।