নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পুলিসের সঙ্গেই বেআইনি বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। সমন্বয় বাড়াতে হবে উর্দিধারীদের সঙ্গে। ব্লকস্তরের আধিকারিকদের এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বাঁকুড়া জেলা ভূমিদপ্তরের কর্তারা। নিচুতলার পুলিস কর্মীদের ক্ষোভের বিষয়টি আঁচ পেয়েই জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেন। তারপরেই পুলিসের সঙ্গে যৌথ অভিযানের উপর জোর দেওয়া হয় বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার এব্যাপারে বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা জেলা ভূমি ও ভূমি সংষ্কার আধিকারিক বিবেক দত্তাত্রেয় ভাসমে বলেন, বেআইনি বালি কারবারিদের বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পুলিসের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানোর জন্য বিএলএলআরওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইমতো ব্লকস্তরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
উল্লেখ্য, শীত পড়তেই বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন নদনদী ও জোর বাঁধের জল কমে গিয়েছে। শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে নদীর চর। সেই সুযোগে দেদার বালি ও মাটি পাচার করা হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন নদনদীর উপর থাকা রাজ্য ও জাতীয় সড়কের সেতুগুলিও রেহাই পাচ্ছে না। মাফিয়া মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা সেতুর পিলারের গোড়া থেকে বালি, মাটি কেটে পাচার করছে। মাফিয়া আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বৈধ বালি খাদানে গিয়েও গণ্ডগোল পাকাচ্ছে। তারফলে সামগ্রিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে সরকারেরই। রাজস্ব হ্রাসের পাশাপাশি স্থায়ী সম্পদ ও নির্মাণেরও ক্ষতি হচ্ছে। ওইসব ঘটনা বারবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও ‘অজ্ঞাত’ কারণে জেলা ভূমিদপ্তর উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের আধিকারিকরা কার্যত নীরব রয়েছেন। এতদিন বিষয়টি নিয়ে কেউ সেভাবে গা করেননি। তবে সোনামুখীতে বালি মাফিয়ারা পরিকল্পনা করে পুলিসের উপর আক্রমণ করায় শোরগোল পড়ে যায়। বিষ্ণুপুর মহকুমা এলাকায় বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি বলে অভিযোগ। সেখানে পুলিসকে মারতেও মাফিয়ারা দু’বার ভাবছে না। ফলে নিচুতলার পুলিস কর্মীদের মধ্যে এনিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। মূলত ভূমিদপ্তরের বিরুদ্ধেই উর্দিধারীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কার স্বার্থে ভূমিদপ্তর সেভাবে সক্রিয়তা দেখাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন নিচুতলার পুলিস কর্মীদের একাংশ তুলছে। আর এতেই মহকুমা ও জেলা ভূমিদপ্তরের শীর্ষ কর্তারা সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন। প্রায় আট বছর আগে বাঁকুড়া ও বর্ধমানে বেআইনি বালি পাচার নিয়ে পুলিস ও ভূমি দপ্তরের মধ্যে ব্যাপক টানাপোড়েন হয়েছিল। সেবার অবশ্য দামোদর নদের দু’পাড়ের থানাগুলির বিরুদ্ধে ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিলেন। দামোদর নদে ‘অরক্ষিত’ অবস্থায় অভিযান চালাতে গিয়ে বাঁকুড়া জেলা ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা মাফিয়াদের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন। আর এবার মার খেয়েছে পুলিস। তবে দুই ক্ষেত্রেই আক্রমণকারী সেই বালি মাফিয়ারা। ফলে এবার ব্যবস্থা গ্রহণের সময় এসেছে বলে সবপক্ষই বুঝতে পারছে।
জেলা ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সোনামুখীর ঘটনার পর পুলিসের একাংশ ক্ষুব্ধ হতে পারে। সহকর্মীরা আক্রান্ত হলে আমাদেরও খারাপ লাগে। তবে পুলিসের সঙ্গে ভূমিদপ্তরের কোনও বিরোধ নেই। আমরা অতীতেও একসঙ্গে কাজ করেছি। আগামী দিনেও সেভাবেই করব। মাফিয়াদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।
জেলা ভূমিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সোনামুখীর ঘটনার পর পুলিসের একাংশ ক্ষুব্ধ হতে পারে। সহকর্মীরা আক্রান্ত হলে আমাদেরও খারাপ লাগে। তবে পুলিসের সঙ্গে ভূমিদপ্তরের কোনও বিরোধ নেই। আমরা অতীতেও একসঙ্গে কাজ করেছি। আগামী দিনেও সেভাবেই করব। মাফিয়াদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।



