Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেআইনি বালিঘাট বন্ধ করতে কোমর বেঁধে অভিযান শুরু পুলিস, প্রশাসনের

বেআইনি বালিঘাট বন্ধ করতে কোমর বেঁধে অভিযান শুরু পুলিস, প্রশাসনের
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি:  মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর জেলাজুড়ে বেআইনি বালিঘাট বন্ধের জন্য অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিস ও প্রশাসন। কিন্তু কিছুক্ষেত্রে অভিযান চালানোর আগেই খবর পৌছে যাচ্ছে বেআইনি বালিঘাট কারবারিদের কাছে। ফলে আগাম সতর্ক হয়ে পুলিসি অভিযানের আগেই গা ঢাকা দিচ্ছে বালিঘাট কারবারিরা। 
Advertisement
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েকদিন আগে বেআইনি পাচার ও বালিঘাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই জেলা পুলিস প্রশাসন ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে জেলাজুড়ে অভিযান শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, জেলার বিভিন্ন নদীর বালিঘাটে বৈধ ও অবৈধ বালির ঘাট চিহ্নিত করা হচ্ছে। যেখানেই অবৈধ বালির ঘাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই চলছে রাতের অন্ধকারে অভিযান। সেই অভিযানে নেমে প্রশাসনের তরফে সেই অবৈধ বালিঘাট সিল করে দেওয়া হচ্ছে এবং সেই ঘাটের কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বেআইনি বালিঘাটের পাশাপাশি বেআইনি বালি মজুতদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, একাধিক নদী থেকে বালি তুলে এনে একাধিক জায়গায় মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠছে। সেই বালির মজুতদাররা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সেখানে মজুত করেছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বালি মজুতে প্রশাসনিক অসঙ্গতি বুঝলেই সেই বালি সিজ করে মজুতদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই বেআইনি বালিঘাটের ওপর নজরদারি রাখার জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ চার-পাঁচটি জায়গা চিহ্নিত করে চেকগেট তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত প্রশাসনিক ভাবে নজরদারি চালানো হবে। চেকগেটে বেআইনি চালান নিয়ে বালি কারবার হচ্ছে কি না, সেটাও দেখা হবে। 
তবে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কড়া অভিযান চালানোর মধ্যে মাঝে মাঝেই অভিযানের আগেই সেই এলাকার বেআইনি বালি কারবারিদের কাছে অভিযানের খবর পৌছে যাচ্ছে। ফলে অভিযানের আগেই গা ঢাকা দিচ্ছে কারবারিরা। এতে সারারাত অভিযান চালিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে প্রশাসনিক কর্তাদের। সূত্রের খবর, সোমবার মধ্যরাতে এমনই একটি অভিযান হয়েছিল মহম্মদ বাজার, সাঁইথিয়া, ময়ূরেশ্বর সহ একাধিক থানা এলাকার বালিঘাটে। নতুনগ্রামের কাছে গাঙ্গলারা এলাকায় বেশ কয়েকটি বেআইনি বালিঘাটে অভিযান করা হয়। সেখানে জেলা পুলিসের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, এনফোর্সমেন্ট বিভাগের আধিকারিক এবং ভূমিরাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান হয়। কিন্তু সেই অভিযানের আগে কারবারিরা খবর পেয়ে যাওয়ায় সেখানে তেমন কিছুই উদ্ধার করা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, প্রতিদিন প্রচুর অভিযান চলছে। কোনও অভিযানে কিছু পাওয়া যায়নি মানেই তা ব্যর্থ হয়েছে তা নয়। লাগাতার চলছে এই অভিযান। এই প্রসঙ্গে বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, জেলাজুড়ে বেআইনি বালিঘাট, বেআইনি বালি মজুতদারি, পাচার সব কিছু বন্ধের জন্য লাগাতার কড়া অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিস, এনফোর্সমেন্ট ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চলছে। বেআইনি ঘাট বা মজুত দেখলেই তা সিল করে দেওয়া হচ্ছে। কারবারিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই নজরদারি লাগাতার চালানোর জন্য চার-পাঁচটি জায়গায় চেকগেটও করার কথা ভেবেছি। সেখানে সরকারি চালান দেখে নেওয়া হবে। এই অভিযান কড়াকড়ি ভাবে লাগাতার চলবে।
সম্পর্কিত সংবাদ