Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র মজুত ও কেনাবেচার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালদহের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য

বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র মজুত ও কেনাবেচার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মালদহের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এবার বেআইনি অস্ত্র কারবারে নাম জড়াল শাসক দলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের। অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার রাতে মালদহের ওই গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ফরাক্কা রেলপুলিস। রবিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। ধৃতের নাম আব্দুল রশিদ। তার বাড়ি মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার শোভাপুর গ্রামে। তিনি পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সে জাতীয় কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়। কিন্তু বছর খানেক আগেই দল বদলে শাসক দলে যোগ দেয় বলে তার দাবি। দিন কয়েক আগেই নিউ ফরাক্কা স্টেশনে আগ্নেয়াস্ত্র সহ মালদহের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে রেল পুলিস। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ওই পঞ্চায়েত সদস্যের নাম জানতে পারে পুলিস।
Advertisement
বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকার বলেন, সম্প্রতি কংগ্রেসের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গুরুতর অভিযোগে জেলে সাজা খেটেছে। ওরা এলাকায় নানান অসামাজিক কাজে জড়িত। এসব কংগ্রেসের কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযুক্ত কাগজেকলমে তৃণমূলে যোগ দেয়নি, কোনও পতাকাও ধরেনি। তৃণমূলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। 
জানা গিয়েছে, প্রায় সপ্তাহ দু’য়েক আগে নিউ ফরাক্কা রেলস্টেশন সংলগ্ন সাবওয়ে থেকে বৈষ্ণবনগরের তৌসিফ আলিকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার হেফাজত থেকে দু’টি দেশি পিস্তল ও চারটি ম্যাগাজিন বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে রেল পুলিস। জেরায় তৌসিফ পুলিসকে জানায়, অস্ত্রগুলো গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য আব্দুল রশিদের কথা মতো বিহারে নিয়ে যাচ্ছিল। রশিদই তাকে সেগুলো মেরামতির জন্য দেয়। এরপর ফরাক্কা রেল পুলিসের একটি টিম মালদহে গিয়ে রশিদের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জেরায় রশিদ অস্ত্রের কথা কবুল করেছে বলে পুলিসের দাবি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ধৃত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অস্ত্রগুলি কিনেছিল বলে পুলিসকে জানিয়েছে। বর্তমানে অস্ত্রগুলিতে সামান্য গোলযোগ দেখা দেওয়ায় সেগুলো মেরামতির জন্য তৌসিফকে দিয়ে বিহারে পাঠানো হচ্ছিল। মেরামতির পর সেগুলো বিক্রিরও পরিকল্পনা করেছিল রশিদ। এক বাংলাদেশি যুবকের কাছে অস্ত্রগুলি এক লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বিক্রির কথাবার্তা পাকা করে সে। মেরামতি হয়ে এলেই সেগুলো হাতবদল করা হতো বলে জানিয়েছে ধৃত গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য। এদিকে শাসক দলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যের অবৈধভাবে অস্ত্র মজুত ও কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। শাসকদলে থাকলে সব করার অধিকার রয়েছে বলে কটাক্ষ করছে বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলি। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল। ধৃত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কোনও ভাবেই শাসকদলের সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি তৃণমূলের। জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে নিয় যাওয়ার পথে পুলিসের গাড়িতে বসে আব্দুল রশিদ বলেন, অস্ত্র মজুতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি কংগ্রেস থেকে এক বছর আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছি।
এপ্রসঙ্গে ফরাক্কা রেল পুলিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত এক যুবককে জিজ্ঞাবাদ করে আব্দুল রশিদের নাম পাওয়া যায়। তারই ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জেরায় সে বেআইনি অস্ত্রের কথা কবুলও করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ