Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো গোয়েন্দা পরিচয়ে গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের ফের জামিন নাকচ, ধৃতের লক্ষাধিক টাকা বেতন! রহস্যভেদে পুলিস

ভুয়ো গোয়েন্দা পরিচয় দিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিষেক রায়ের জামিন ফের নাকচ। শনিবার মামলাটি জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে ওঠে

ভুয়ো গোয়েন্দা পরিচয়ে গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের ফের জামিন নাকচ, ধৃতের লক্ষাধিক টাকা বেতন! রহস্যভেদে পুলিস
  • ৩ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ভুয়ো গোয়েন্দা পরিচয় দিয়ে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিষেক রায়ের জামিন ফের নাকচ। শনিবার মামলাটি জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে ওঠে। সেখানে অভিষেক সহ ধৃত তার দুই সঙ্গীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। বর্তমানে তারা জেল হেফাজতে রয়েছে। আগামী ১১ তারিখ ফের মামলাটি আদালতে উঠবে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী মৃন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisement

এদিকে, জলপাইগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা ধৃত অভিষেকের লক্ষাধিক টাকা বেতনের এখনও রহস্যভেদ করতে পারেনি পুলিস। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক জানান, প্রতিমাসে ধৃত ওই যুবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা ঢুকত। বিভিন্ন খাতে কেটে নেওয়ার আগে সেই অঙ্ক ১ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। ফলে এই টাকা সাধারণ চাকরিতে পাওয়া সম্ভব নয়। সেকারণে ওই যুবক ঠিক কী চাকরি করত, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা সূত্রে খবর, ধৃত নিজেকে এথিক্যাল হ্যাকার হিসেবে দাবি করেছে। সেটাও কতটা সত্যি, তা যাচাই করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এথিক্যাল হ্যাকার হয়ে কেন ওই যুবক পুলিস স্টিকার লাগানো গাড়ি নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল, কেনই বা মোবাইলে সীমান্ত এলাকার ছবি তুলছিল, খতিয়ে দেখছে পুলিস।
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ধৃত অভিষেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে যেখান থেকে মোটা টাকা ঢুকত, সেই সংস্থার নাম পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু ওই সংস্থার পক্ষ থেকে টাকা দেওয়া হতো, নাকি তাদের নাম করে অন্য কেউ ওই যুবককে প্রতিমাসে কোনও বিশেষ কারণে মোটা টাকা জোগাত, সেটা দেখা হচ্ছে। এনিয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য পেয়েছি। তদন্ত চলছে।
গত ১৯ জুলাই জলপাইগুড়ি শহর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা দক্ষিণ বেড়ুবাড়ি পঞ্চায়েতের সাতকুড়া এলাকায় গিয়েছিল অভিষেক। সেখানে ঘুরে ঘুরে মোবাইলে ছবি তুলছিল বলে অভিযোগ। বিএসএফ জওয়ানরা সেটা দেখতে পেয়ে তার পরিচয় জানতে চায়। তখন ওই যুবক নিজেকে রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় বিএসএফ তাকে আটক করে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছিল।
পুলিস সূত্রে খবর, গাড়িতে পুলিস স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়াত অভিষেক। দেহরক্ষী বলে পরিচয় দিতে বেশিরভাগ সময় সঙ্গে কাউকে রাখত। মাঝেমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় ঘোরাঘুরি করত এবং ছবি তুলত। সেসব ছবি কেন তুলত, কোথাও পাঠাত কি না-তদন্ত করে দেখছে পুলিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ