Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জামিনের আর্জি খারিজ, ঠাকুরপুকুরে দুর্ঘটনাকাণ্ডে জেল হেফাজতে পরিচালক

ফলে অভিযুক্ত সিদ্ধান্ত দাস ওরফে ভিক্টোকে থাকতে হবে জেলেই।

জামিনের আর্জি খারিজ, ঠাকুরপুকুরে দুর্ঘটনাকাণ্ডে জেল হেফাজতে পরিচালক
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জেল হেফাজতে ছিলেন। ‘মুক্তি’র আশায় জেলা আদালতে জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন ঠাকুরপুকুরে গাড়ি দুর্ঘটনা কাণ্ডে খুনে অভিযুক্ত সিরিয়াল পরিচালক। কিন্তু, সোমবার সেই আর্জি খারিজ করে দিলেন আলিপুর জেলা আদালতের বিচারক। বাঘা বাঘা আইনজীবীদের সওয়াল জবাবেও মিলল না রেহাই। ফলে অভিযুক্ত সিদ্ধান্ত দাস ওরফে ভিক্টোকে থাকতে হবে জেলেই।

Advertisement

গত ৬ এপ্রিল ঠাকুরপুকুরে ভরা বাজারে মদ্যপ অবস্থায় ট্রাফিকবিধি ভেঙে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়েন ভিক্টো। সঙ্গে ছিলেন এক অভিনেত্রী ও বাংলা টেলিভিশনের কার্যনির্বাহী পরিচালক। অভিযোগ, নেশার ঘোরে পরপর ৯ জনকে ধাক্কা মারেন। তাতে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ভিক্টো। আলিপুরের নিম্ন আদালত তাঁকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। জামিন পেতে আলিপুর জেলা আদালতে অভিযুক্ত পরিচালক ভিক্টোর তরফে আইনজীবীরা আর্জি জানান। সোমবার ছিল শুনানির দিন। এদিন জেলা আদালতের ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ অয়ন মজুমদারের এজলাসে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি শিবনাথ অধিকারী ভিক্টোর জামিনের তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে ভরা বাজারের ভিতর মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের অভিযুক্ত ধাক্কা মেরেছে, তা বেনজির ঘটনা। তাই সরকার পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি, অভিযুক্তের জামিনের আর্জি খারিজ করা হোক। জামিন পেলে মামলার তদন্ত ব্যাহত হতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। 
অন্যদিকে, এজলাসে সরকারি আইনজীবীর সওয়ালের প্রত্যুত্তরে অভিযুক্তের আইনজীবীরা বলেন, এই মামলা কোনও অগ্রগতি নেই। একই ঘটনা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাটা রেকর্ডের মতো আদালতে পেশ করা হচ্ছে। যার কোনও ভিত্তি নেই। তাছাড়া গ্রেপ্তারির পর প্রায় ২ মাস গড়িয়ে গিয়েছে। তাই মক্কেলকে যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়া হোক। তিনি তদন্তে সবরকমভাবে সহায়তা করবেন। উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক মামলার নথিপত্র ও কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের জামিনের আর্জি নাকচ করে দেন। ঘটনার গুরুত্ব পর্যবেক্ষণ করেই ধৃতের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয় বলে আদালতের মন্তব্য।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় একজন অন্যতম সাক্ষী বিচারকের কাছে গোপন জবাববন্দি দেন। তিনি ছিলেন ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী। এদিন সাক্ষীর বক্তব্যকেও হাতিয়ার করেন সরকারি কৌঁসুলি শিবনাথবাবু।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ