নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: অভিনব কৌশলে টাকার লেনদেন করত ধৃত মহম্মদ সইদুলের গ্যাং। মানি লন্ডারিং কাণ্ড নিয়ে সাতদিন ধরে ধৃতের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে দার্জিলিং জেলা পুলিস। তাদের ধারণা, পুলিস ও গোয়েন্দাদের নজর এড়াতেই এমন পন্থা নিয়েছিল সইদুল। অন্যদিকে, মঙ্গলবার ফের ধৃতের জামিনের আবেদন খারিজ করে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশে পুলিস শ্যোন অ্যারেস্ট করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে নতুন করে জালিয়াতি, ব্ল্যাকমেল ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করা হয়েছে।
সারোগেটেড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে মানি লন্ডারিং সিন্ডিকেটের কাছে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার সইদুল ও তার সাগরেদ তপন গোপকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিস। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পাচ্ছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ সারোগেটেড অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে হোয়াইট করা হতো। এজন্য সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলি দুবাই, আবুধাবি, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো। একইসঙ্গে অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষদের প্রতারিত করছে চক্রীরা। সেই টাকার লেনদেনও হয়েছে সইদুলের খোলা সারোগেটেড অ্যাকাউন্টে। যা ‘স্মারফিং’ পদ্ধতিতে করা হয়েছে।
পুলিস অফিসাররা বলেন, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ অন্য দেশে বা অন্য অ্যাকাউন্টে সরানোর কৌশল স্মারফিং। এই পদ্ধতিতে বিশাল অঙ্কের টাকা ছোট ছোট অংশে ভাগ করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরানো হয়। পুলিস ও গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিতেই ধৃতের গ্যাং এভাবে অর্থ পাচার করেছে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (কার্শিয়াং) অভিষেক রায় বলেন, ধৃতের গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে এমন তথ্য জানা গিয়েছে। তা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আদালতের নির্দেশে এতদিন পর্যন্ত সাইদুল ও তার সাগরেদ পুলিস হেফাজতে ছিল। এদিন ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হয়। আদালত সূত্রের খবর, ধৃতদের জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। পাশাপাশি, পুলিস ধৃতদের হেফাজতে নেওয়া এবং কলকাতার সফ্টওয়ার ইঞ্জিনিয়ার এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে শ্যোন অ্যারেস্ট করার আবেদন জানায়। মামলার নথি পর্যবেক্ষণ এবং উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ধৃতদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে কলকাতার ওই মহিলা ব্ল্যাকমেল, প্রতারণা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (কার্শিয়াং) বলেন, ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ধৃতকে শ্যোন অ্যারেস্ট করার আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত তা গ্রাহ্য করেছে। একইসঙ্গে আগের মামলায় ধৃতকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত ধৃতদের ছ’দিনের জন্য হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
ধৃতের আইনজীবী সৌভিক সেনগুপ্তের দাবি, কলকাতার ওই মহিলাকে দিয়ে তাঁর মক্কেল সইদুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে পুলিস। তবে সইদুলের বিরুদ্ধে আটটি মামলা রুজু করেছে পুলিস। যারমধ্যে পাঁচটিতেই তার জামিন মিলেছে।