নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ভরা রাস্তার মধ্যেই এক অটো চালককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল বহরমপুরের ট্রাফিক ওসি’র বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে বহরমপুরের গির্জা মোড়ে। ঘটনায় গুরুতর জখম হন ওই অটো চালক। এমনকী, তাঁর মাথাও ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিকের ওসি বাবলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে। জখম অটো চালকের নাম আজাদ শেখ। তাঁকে মুর্শিদাবাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিসের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ তুলে জাতীয় সড়কে অটো রেখে রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখান অটো চালকরা। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলে বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় অটো চালকদের। জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে বহরমপুর শহরের উপর ব্যাপক যানজট শুরু হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন অটো চালকরা। যদিও অভিযুক্ত ট্রাফিকের ওসিকে এই ঘটনা জানার জন্য বারবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তিনি জবাব দেননি।
এই ঘটনার তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিস সুপার(সদর) মাজিদ ইকবাল খান। তিনি আরও বলেন, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল আমরা তদন্ত করে দেখছি। দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে যদি ট্রাফিকের ওসির দোষ পাওয়া যায়, তাহলে ওঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অটো চালক মনিরুল শেখ বলেন, অটোর ডান দিক থেকে এক যাত্রী নেমে পড়ায় আজাদ শেখকে বিনা কারণে মারধর করা হয়। ও এমনিতেই অসুস্থ ছিল। তারপরও এমনভাবে মারল। ও বাঁচবে কি না জানি না। খুব সঙ্কটজনক অবস্থায় ওঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আজাদের মা ও বউকে ভয় দেখাচ্ছে পুলিস। ওই অটো চালক আজাদ বলেন, অটোতে যাত্রী ছিল। তাঁদের সামনে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। তারপর মারতে মারতে টেনে ট্রাফিকের অফিসে ঢুকিয়ে বেধড়ক মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে বাবলু নামের ওই অফিসার।
এদিন বিক্ষোভকারী অপর এক অটো চালক বলেন, অটো চালানোর জন্য পারমিট নিয়ে লাইসেন্স নিতে হয়। সমস্ত সরকারি কাগজ আছে আমাদের। যেভাবে নিরীহ আজাদকে মারধর করা হল, তা দেখে সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত। রাস্তার মধ্যে মারতে মারতে ওঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছে।
ডেপুটি পুলিস সুপার(ট্রাফিক) দিব্যেন্দু দাস বলেন, ওই অফিসারের নামে অভিযোগ যেমন আছে, তেমন পাল্টা অভিযোগও আছে। সেসব খতিয়ে দেখা হবে। এখনই এই বিষয়ে মন্তব্য করব না। ঘটনার জেরে কিছুটা যানজট হয়, আমরা সেই পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিয়েছি।
বহরমপুরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, এক শ্রেণির পুলিস অবৈধ কাজ করে পার পেয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। ট্রাফিকের বহু পুলিস রাস্তায় প্রচুর পরিমাণে টাকা তুলছে। ওই অফিসার হয়তো এদিনও সকাল থেকে ভালো উপার্জন করতে পারেনি বলে মেজাজ হারিয়ে মারধর করেছে।