নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিছানার উপর পড়েছিল অসুস্থ যুবকের নিথর দেহ! বাড়ির ভিতর লণ্ডভণ্ড করা ছিল সমস্ত জিনিসপত্র। আলমারিও খোলা। বাগুইআটির রঘুনাথপুর সরকার বাগান এলাকার এই ঘটনায় খুন ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু, বাইরে থেকে তালা এবং বাড়ির ভিতরে থাকা পোষ্য চিৎকার না করায় সন্দেহ হয়েছিল পুলিশের। সেই সূত্রই ধরিয়ে দিল ‘খুনি’কে। যুবককে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল মৃতের দাদাকে! পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম কৃষ্ণ রাজবংশী। জেরায় ভাইকে খুনের কথা সে কবুল করেছে। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতেই খুনের পর লুটপাটের কাহিনি সাজিয়েছিল সে।
মৃত যুবকের নাম বলরাম রাজবংশী (৩০)। বছর দু’য়েক ধরে তিনি অসুস্থ। শয্যাশায়ী অবস্থায় বাড়িতেই থাকতেন তিনি। কিছুদিন আগে মাথায় অপারেশন হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে বাইরে থেকে তালা দিয়ে যেতেন। তাঁর সঙ্গে বাড়ির ভিতরে থাকত পোষ্য সারমেয়। রবিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতো কাজে বেরিয়ে যান বলরামের বাবা ও দাদা। তাঁরা মাছের ব্যবসা করেন। মা পরিচারিকার কাজ করেন। তিনিও সকালে কাজে যান। দুপুরে মা বাড়িতে যখন ফেরেন, তখন মূল গেটে তালা দেওয়া ছিল। অথচ, বিছানার উপর পড়েছিল বলরামের মৃতদেহ। পাশের ঘরে পোষ্য আটকানো। জিনিসপত্র তছনছ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেকেই বলছিলেন, বাড়ির পিছনে গাছ বেয়ে দুষ্কৃতীরা ছাদ দিয়ে বাড়িতে ঢুকে থাকতে পারে। কিন্তু, তার কোনো নমুনা মেলেনি। বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখে পুলিশ রবিবার রাতে বলরামের দাদা কৃষ্ণকে আটক করে। জেরায় ভেঙে পড়ে সে। তারপর খুনের কথা কবুল করে। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় কৃষ্ণকে। পুলিশ জানতে পেরেছে, সে সকালে কাজে বের হলেও দুপুরের আগেই ফিরে আসে। তালা খুলে ভিতরে ঢোকে। চেনা লোক বাড়িতে আসায় পোষ্য চিৎকার করেনি। তাই সহজেই তাকে অন্য ঘরে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। তারপর মাথায় আঘাত করে ভাইকে খুন করে সে। তারপর আবার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে সে চলে যায়। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে এবং ডাকাতি দেখাতে সে লুটপাটের কাহিনি সাজায়।
কেন খুন? পুলিশ জানতে পেরেছে, সম্পত্তিগত কারণ রয়েছে। সেই সঙ্গে ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাই তাঁকে খুন করার ছক কষেছিল সে। জেরায় পুলিশকে জানিয়েছে, যেহেতু ভাই অসুস্থ, তাই সে একা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।