নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ঘরে বসেই মোটা টাকা উপার্জনের সুযোগ! শহরের বিভিন্ন রেস্তরাঁর ভালো ভালো রিভিউ লিখতে হবে! ইনস্টাগ্রামে মিলেছিল এমন লোভনীয় অফার। হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলে কাজ শুরু করেছিলেন বাগুইআটির এক মহিলা। প্রথমে হাজারখানেক টাকা পেয়েওছিলেন। এভাবে বিশ্বাস আরও পোক্ত হলে মহিলাকে বিনিয়োগের টোপ দেয় প্রতারকরা। একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে তাঁকে মোটা টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়। প্রথমে অল্প বিনিয়োগ করে রিটার্নও পান। তারপরই প্রতারকদের কথায় প্রভাবিত হয়ে আরও টাকা বিনিয়োগ করেন। এভাবে ফাঁদে পা দিয়ে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা খোয়ালেন ওই মহিলা। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে শনিবার তিনি বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা এখন প্রায়শই ঘটছে। এখন বিভিন্ন পণ্য বা বাণিজ্যিক সংস্থার রিভিউয়ের টোপ দিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে প্রতারণা চালাচ্ছে সাইবার জালিয়াতরা। কিছুদিন আগেই রাজারহাটের এক যুবক এই ফাঁদে পা দিয়ে ১৩ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। তাঁকে ইউটিউব চ্যানেল এবং গুগলে রিভিউ লিখতে বলা হয়েছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির প্রতারিত মহিলা একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে শহরের রেস্তরাঁর রিভিউ লেখার কাজের খবর পান। হোয়াটসঅ্যাপে একজনের সঙ্গে কথা বলে কাজ শুরু করে দেন। কাজ হওয়া মাত্র তাঁকে দু’দফায় ১৮০ টাকা এবং ১০৪০ টাকা দেওয়া হয়। এরপর প্রতারকরা তাঁকে বেশি মুনাফা লাভের টোপ দিয়ে বিনিয়োগ করতে বলে। সেই সঙ্গে ভুয়ো কাজ, ট্যাক্স বাবদ খরচ, অ্যাকাউন্ট রিঅ্যাক্টিভেশন সহ বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে টাকা আদায় করে প্রতারকরা। সব মিলিয়ে মহিলার কাছ থেকে প্রতারকরা ১১ লক্ষ ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। অভিযোগপত্রে প্রতারিত মহিলা ট্রানজাকশনের সমস্ত নথি জমা করেছেন। সেই সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর, টেলিগ্রাম গ্রুপের অ্যাকাউন্টগুলিও পুলিসের কাছে জমা করেছেন। তার ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিস ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, যে কোনও ধরনের কাজ এবং বিনিয়োগের প্রসঙ্গ এলেই সতর্ক হওয়া উচিত। এই ধরনের প্রতারণা নিয়ে বিধাননগর কমিশনারেট বহুদিন ধরেই সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। তা সত্ত্বেও প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছেন অনেকে।