নিজস্ব প্রতিনিধি, গোসাঁইপুর (বাগডোগরা): বিধানসভা ভোটের মুখে আদিবাসীদের সভা ঘিরে রাজনীতির ময়দানে তৈরি হয়েছে জোর বিতর্ক। শনিবার সভাস্থল থেকে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের কার্যকর্তাদের অভিযোগ, এই সভায় রাষ্ট্রপতি এলেও দার্জিলিং জেলা প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করেনি। একই সুরে তাল ঠুকেছে পদ্ম শিবির। কেউ কেউ রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি করেছেন। পাল্টা বাংলাকে অপমান করার চক্রান্ত বলে জবাব দিয়েছে জোড়াফুল শিবির। উভয়পক্ষের বাগযুদ্ধ ঘিরে সরগরম রাজনীতির ময়দান।
এদিন গোসাঁইপুরের সভায় আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের কার্যকরী সভাপতি নরেশ মুর্মু বলেন, এই সভায় যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। অথচ এই সভা করার ক্ষেত্রে প্রশাসন কোনোরকম সহায়তা করেনি। তারা সভাস্থলে এক কোদাল বালিও ফেলেনি। সভার মঞ্চ, গ্রিনরুম ঠিকভাবে তৈরি করা হয়নি। সবটাই কাউন্সিল নিজেদের ক্ষমতায় করেছে।
এতেই সুর মিলিয়েছেন বিজেপির দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা ও ফাঁসিদেওয়ার বিধায়ক দুর্গা মুর্মু। বিস্তা বলেন, পূর্ব ঘোষিত রাষ্ট্রপতির কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে। দুর্বব্যবহার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আদিবাসী ও সাঁওতাল সমাজকে অপমান করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে, আদিবাসী এবং দেশ বিরোধী তৃণমূল। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির এই কর্মসূচি ভেস্তে দেওয়ার ছক কষেছিল প্রশাসন ও তৃণমূল। ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়কেরও একই বক্তব্য। তিনিও রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, আদিবাসীরা সময়মতো এর জবাব দেবে।
পদ্ম শিবিরের অভিযোগ মানতে নারাজ প্রশাসন ও তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কর্মসূচি সরকারি নয়। বেসরকারি একটি সংস্থা রাষ্ট্রপতি ভবনের সঙ্গে মিলে ওই অনুষ্ঠান করেছে। সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান আয়োজনের খামতি নিয়ে তিন দিন আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, ওই এমপি’র বক্তব্য গুরুত্বহীন। তিনি না জেনে তোতা পাখির মতো স্ক্রিপ্টেড বুলি আওরাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের সদস্য তথা শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাপতি তৃণমূলের রোমা রেশমি এক্কা বলেন, সভাস্থল আমরা সংস্কার করেছি। মহকুমা পরিষদ থেকে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক, বায়ো টয়লেট ভ্যান বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জেলা প্রশাসন দিয়েছে। কাজেই মঞ্চে বসলেও সাংসদ না জেনেই বাংলাকে অপমান করার চেষ্টা করছেন। তৃণমূলের জেলা কো-অর্ডিনেটার কাজল ঘোষ বলেন, নিরাপত্তার কারণে সভাস্থল পরিবর্তন করেছে রাষ্ট্রপতি ভবন। স্থানীয় আদিবাসীরা সবটাই জানে। এবার তারা বিধানসভা ভোটে এর জবাব দেবে।