নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বাদুড়িয়ায় প্রেমিকার স্বামীকে ডেকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে বিএলও তার এক বন্ধু। ঘটনার নেপথ্যে নিহতের স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। তদন্ত যত এগচ্ছে ততই গোটা বিষয়টি নিয়ে রহস্য বাড়ছে। মঙ্গলবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন নিহতের স্ত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভরতি নাসিরের স্ত্রী বিউটি বিবি। ফলে, হাড়হিম করা খুনের ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে। এদিকে এই খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম প্রদীপ মণ্ডল। সোমবার রাতে গোবরডাঙা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার প্রদীপকে বসিরহাট আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
জানা গিয়েছে, নিহত নাসির আলির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল পাপলিয়া ২২ নম্বর বুথের বিএলও তথা পেশায় শিক্ষক রিজওয়ান হাসান মণ্ডলের। সম্পর্কের কথা জেনে ফেলায় পথের ‘কাঁটা’ নাসিরকে সরাতে এসআইআরের নথিপত্র চেয়ে ফোন করে ডেকে আনে বিএলও। এরপরই অপহরণ করে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। দেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে টুকরো টুকরো করে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে তিনটি খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের দাবি। তদন্তে নেমে বিএলও রিজওয়ান হাসান মণ্ডল এবং তার বন্ধু সাগর গায়েনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই প্রকাশ্যে আসে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। সূত্রের দাবি, গোটা ঘটনায় বিশেষ বুদ্ধিদাতা ছিল ধৃত প্রদীপ। তাকে জেরা করে আরও কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। গোটা ঘটনা নিয়ে বিভিন্নমহলে চলছে জোর জল্পনা। নাসিরের স্ত্রী বিউটি বিবির ভূমিকাও পুলিশের আতশকাচের নীচে। কদিন পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে এই আশঙ্কা কাজ করছিল বিউটির মনে। তাই ভয় ও লজ্জায় সোমবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বিউটি বলেই স্থানীয় সূত্রে খবর। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তা আটকে দেয়। মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে কীটনাশক বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে। বিষয়টি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিউটি বাবা বলেন, জামাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে মেয়ে ভেঙে পড়েছিল। মনটাও ঠিক ছিল না। এদিন সন্ধ্যাবেলা সে বিষ খেয়ে নেয়। দ্রুত ওকে হাসপাতালে ভরতি করেছি। এদিকে এই ঘটনায় পুলিশের জালে তিনজন। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, তিনজনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতেই এই গোটা চক্র কাজ করেছে। বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।