নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পরই ফের রাস্তার অবস্থা শোচনীয়। সঙ্গে দোসর ধুলিঝড়। আরামবাগের খামারবেড় থেকে মায়াপুর পর্যন্ত চার কিলোমিটারের এই রাস্তার বিভিন্ন অংশের কঙ্কালসার চেহারা বেআব্রু হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা আরামবাগ শহরের বাসুদেবপুর থেকে গৌরহাটি মোড় পর্যন্ত রাস্তারও। দু’টি রাস্তারই বিভিন্ন অংশ খানাখন্দে ভরা। যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। ফলে স্বল্প দূরত্বের রাস্তা অতিক্রম করতেও দীর্ঘ হয়রানি ও সময় ব্যয় হচ্ছে বলে দাবি যাত্রীদের।
যদিও পূর্ত দপ্তরের দাবি, সম্প্রতি একটানা বৃষ্টির জেরেই রাস্তাগুলি বেহাল হয়ে পড়েছে। তবে সেসব বেহাল অংশের ফের সংস্কার হবে। প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সড়কপথে কলকাতা থেকে আরামবাগ হয়ে কামারপুকুর আসেন। তাঁর আসার খবর নিশ্চিত হতেই পূর্ত দপ্তরের তরফে রাস্তার বিভিন্ন বেহাল অংশের মেরামতির কাজ হয়। আরামবাগ চাঁপাডাঙা ফোর লেনের রাস্তার মাঝেও দীর্ঘ সংস্কারের কাজ হয়। খামারবেড় থেকে মায়াপুর পর্যন্ত রাস্তার ওই অংশে মেরামতির কাজ করতে দেখা গিয়েছে পূর্ত দপ্তরকে। এমনকি, গভীর রাতেও কাজ চলেছে বলে জানিয়েছে পূর্ত দপ্তর। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সফর শেষের পরপরই ফের রাস্তার কঙ্কালসার অবস্থা বেরিয়ে আসে।
এছাড়া রাস্তার বেহাল অংশগুলিতে বাস, লরির মতো ভারী যান চলাচলের ফলে ধুলো ঝড় দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির পর শুকনো আবহাওয়ায় ভারী যান চলাচলের সঙ্গেই এলাকা পুরোপুরি ধুলোয় ঢেকে যাচ্ছে। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। এতেই রাস্তা নিয়ে ক্ষোভের মাত্রা বাড়ছে অনেকেরই। তাই সেসব অংশে জল ছড়ানোর দাবিও উঠেছে।
যদিও পূর্ত দপ্তরের আরামবাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নিখিলেশ দে বলেন, খামারবেড়া থেকে মায়াপুরের অংশে স্থায়ী কাজের বরাত ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। ক্রমাগত বৃষ্টির ফলেই ফের রাস্তার বিভিন্ন অংশ বেহাল হয়েছে। আপাতত ধুলো ওড়া বন্ধ করতে রাস্তায় জল দিতে বলা হয়েছে। তার সঙ্গে সাময়িক সংস্কারও হবে।
এদিকে, পূর্ত দপ্তরের দাবি, ইতিমধ্যেই বেহাল আরামবাগ-কোতুলপুর রাস্তার একাংশেও মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু বর্ষা পুরোপুরি না কাটলে পিচের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
আরামবাগের বাসিন্দা সুবল মণ্ডল, কৌশিক দাসরা বলেন, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্তগুলি বড় আকার নিয়েছে। ফলে ফের আগের মতোই দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।