Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রোমোটিংয়ে গুন্ডারাজ, টাকা দিয়ে প্রতারিত গ্রাহকরা, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগের পাহাড়

প্রোমোটিংয়ে গুন্ডারাজ, টাকা দিয়ে প্রতারিত গ্রাহকরা, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগের পাহাড়
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ছ’বছর আগে দুর্গাপুরের ফুলঝোড়ে একটি ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন শবনম আখতার। তাঁর স্বামী দুর্গাপুরের প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। আবাসনের ভিত কাটার আগেই ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজের পছন্দমতো ফ্ল্যাট বুক করেন তিনি। প্রোমোটারের সঙ্গে এগ্রিমেন্টও হয়। কিন্তু, আবাসন তৈরি হয়ে যাওয়ার পর জানতে পারেন, তাঁর পছন্দের ফ্ল্যাটটি প্রোমোটার অন্য একজনকে আরও একবার বিক্রি করে দিয়েছে। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েছেন মহিলা। দপ্তরের তরফে অভিযুক্ত প্রোমোটারকে ডেকে পাঠালেও ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভাব। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দাবি, মানালি কনস্ট্রাকশন নামে এই সংস্থার বিরুদ্ধে এই ধরনের একাধিক অভিযোগ আসছে। আইনি নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠালেও, সংস্থার তরফে কেউ সাড়া দিচ্ছে না।

Advertisement

ওই মহিলার দাবি, ছ’বছর ধরে বিচারের অপেক্ষায় বসে আছি। তাঁরা প্রভাবশালী বলে কি আমরা বিচার পাব না? অভিযুক্ত প্রোমোটার শ্যামল দত্ত বলেন, আমি ‌ইতিমধ্যে ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছি। ক্রেতাই ফ্ল্যাটটি বুক করার পর তা নিতে অস্বীকার করেছিলেন।
ডিএসপির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী দেবদত্ত রায়। ২০২১ সালে কারখানা থেকে অবসর নেওয়ার পর ২৮ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত তিনি ফ্ল্যাট পাননি। কোনও টাকাও তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি।  দেবদত্তবাবু মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেখান থেকে অভিযোগ এসেছে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। একইভাবে টাকা দিয়েও ফ্ল্যাট না পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ করেছেন গণেশ মজুমদারও। তাঁর সমস্যারও কোনও সমাধান হয়নি। সালানপুর থানার রূপনারায়ণপুরের রূপনগরে ৪নম্বর রাস্তার উপর একটি বড় আবাসন নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে যাঁরা ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন, তাঁরা একজোট হয়ে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন। লিফ্‌ট না দেওয়া, জলছাদ না বানানো, রং না করা সহ বিবিধ অভিযোগ ছিল।
দুর্গাপুরে জেলা ক্রেতা সুরক্ষা অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি মাসে আবাসন সংক্রান্ত অভিযোগই আসছে পাঁচটির বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ আসছে। দপ্তরের নোটিস পেয়ে কিছু প্রোমোটার দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। আবার, কিছু প্রোমোটার ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের নোটিসকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনছে না। অভিযোগ, বহু প্রোমোটারের ব্যবসায় টাকা খাটছে প্রভাবশালীদের। সেইসব ক্ষেত্রে বেপরোয়াভাবে মানুষকে প্রতারিত করে চলেছে প্রোমোটারদের একাংশ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, অনেকক্ষেত্রেই পুরসভা, এডিডিএতে যে প্ল্যান পাশ করানো হচ্ছে, তার থেকে অনেক বেশি এলাকা নিয়ে নির্মাণকাজ হচ্ছে। ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কমপ্লিশন শংসাপত্র দিচ্ছে না প্রোমোটাররা। পরে তা নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ক্রেতারা।
কাস্টমার অ্যাফেয়ার ডিরেক্টরেটের পশ্চিম বর্ধমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বিপ্লব সরকার বলেন, রিয়েল এস্টেট নিয়ে প্রচুর অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা হস্তক্ষেপ করার পর কিছু প্রোমোটার ক্রেতার সঙ্গে সমঝোতা করছেন। কিছুক্ষেত্রে তাঁরা বেপরোয়া মনোভাব দেখাচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ