Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হকারদের থেকে তোলবাজির অভিযোগ, পলাতক সুশান্তর ডান হাত বচ্চন ধৃত

কলকাতা বিমানবন্দরে তোলবাজির অভিযোগে সুশান্ত ঘোষের ডান হাত বচ্চন গ্রেপ্তার। ১৩০ হকারের কাছ থেকে তিন কোটি টাকা তোলার অভিযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

হকারদের থেকে তোলবাজির অভিযোগ, পলাতক সুশান্তর ডান হাত বচ্চন ধৃত
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলার সুশান্ত ঘোষ পলাতক। তাঁর খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ। এরমাঝেই ভিন রাজ্যে পালানোর সময় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হলেন তাঁর ছায়াসঙ্গী তথা ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত সুজিত পাল ওরফে বচ্চন। অভিযোগ সুশান্তবাবুর ফান্ড ম্যানেজার ছিলেন এই বচ্চন। তোলাবাজি করাই ছিল তাঁর কাজ। তাঁকে জেরা করেই সুশান্তর সন্ধান পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, বচ্চনকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য থানা থেকে বের করা হলে ‘ডিম থেরাপির’ মুখে পড়তে হয় তাঁকে।

Advertisement

রুবি এলাকায় বাইপাসের উপর বেআইনিভাবে ফুটপাত দখল করার অভিযোগ রয়েছে সুশান্তর বিরুদ্ধে। এখানকার হকারদের স্থায়ী দোকান দেবেন বলে জানিয়েছিলেন কাউন্সিলার। হকারদের দাবি, এরপর দোকানের আকার ও অবস্থানের কথা বলে প্রতিটি হকারের থেকে দু’ থেকে তিন লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ১৩০ জন হকারের কাছ থেকে সব মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২-’২৩ সালে এই ঘটনা ঘটে। টাকা না দিলে কাউকে দোকানঘর দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন বচ্চন। অভিযোগ, পুরো টাকাটাই তুলেছিলেন কাউন্সিলারের এই ঘনিষ্ঠ। তৃণমূল জমানায় প্রভাবের কারণে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। পালাবদলের পর ১৩০ জন হকার আনন্দপুর থানায় কাউন্সিলার, তাঁর ছায়াসঙ্গী বচ্চন সহ সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ তোলাবাজি সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে।
অভিযোগ হওয়ার পরই বেপাত্তা হয়ে যান সুশান্ত। তাঁর সঙ্গেই এলাকা ছাড়েন বচ্চন। পুলিশ জানতে পারে, তাঁরা পুরীতে একসঙ্গেই রয়েছেন। কিন্তু সেখানে পুলিশ তল্লাশি চালালে সকলেই পালিয়ে যান। বচ্চন লুকিয়ে কলকাতায় ফিরলেও এলাকায় ঢোকেননি। পরিচিত ও বন্ধুদের বাড়িতে ডেরা বদলে থাকছিলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠদের মোবাইল নম্বর জোগাড় করেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, বচ্চন ফের ভিন রাজ্যে পালানোর ছক কষছেন। তাঁর নামে লুক আউট নোটিস জারি করে দেশের সমস্ত বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে আসেন। সেই খবর পেয়ে যায় পুলিশ। বিমানবন্দরে চলে আসেন তদন্তকারী অফিসাররা। অভিবাসন দপ্তরের চেকিংয়ের সময় তাঁকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে থানায় জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সকলের হাতেই ছিল ডিম। আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে থানা থেকে বের করা হলে অনবরত ডিম ছোড়ে ক্ষিপ্ত জনতা। তাঁকে গাড়িতে তুলতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ