নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হাসপাতালে শিশুকন্যাকে ভর্তি করেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু ছুটির সময় তাঁরা আসতে পারেননি। এসেছিলেন জেঠু। তাতেই শিশুর পিতৃপরিচয় নিয়ে গোল বেঁধেছিল। হাসপাতাল থেকে সোজা তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক হোমে। বাবা-মা বেঁচে থাকতেও তকমা জুটেছিল ‘অনাথ’-এর। ৪২ দিন ধরে একাধিক আইনি লড়াই লড়ে শেষ পর্যন্ত শিশুকন্যাকে মায়ের কোলে ফেরালেন বাঁশবেড়িয়ার বাসিন্দা বাবা।
এক শিশুকন্যার পিতৃপরিচয় নির্ধারণের সেই মামলায় যোগ রয়েছে এক জনপ্রতিনিধির। তিনি আইনজীবী তথা হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী। মঙ্গলবার যখন শিশুকন্যাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন বাবা-মা, তখন চোখে জল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নির্মাল্যও। বাঁশবেড়িয়ার বাসিন্দা ওই শিশুকন্যার বাবা অশোক জেনা বলেন, খুব বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম। আমার মেয়ে আমার দাদাকে বড়বাবা বলে। তাতেই হাসপাতালে গোল বেঁধেছিল। দেবদূতের মতো আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন নির্মাল্যবাবু। তাই মেয়েকে ফিরে পেলাম। মেয়ে বড় হলে তাকে শেখাব নির্মাল্যবাবুকে ‘বড়পাপা’ বলে ডাকতে। সলজ্জ মুখে নির্মাল্যবাবু অবশ্য হাত নাড়তে নাড়তে বলেন, সেসবের দরকার নেই। আপনি বাবা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। সেটাই অনেক বড় পাওনা। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরেছে। আর কি চাই।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দেড়মাস আগে। আচমকা অশোকবাবুর শিশুকন্যা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তিনি চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেই সময়েই ওড়িশায় তাঁর শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ছুটে যান ওড়িশায়। মেয়েকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব বর্তেছিল অশোকবাবুর দাদার কাঁধে। শিশুকন্যাটির ছুটির সময় তিনি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু শিশুকন্যাটি তাঁকে ‘বড়বাবা’ বলে সম্বোধন করে। তাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সইসাবুদ মিলিয়ে দেখতে শুরু করে। বলাই বাহুল্য যে, সই মেলেনি। অতএব সন্দেহের বশে শিশুকন্যাকে আর ফেরত দেয়নি হাসপাতাল। সেখান থেকে সোজা তার ঠাঁই হয়
হোমে। ততদিনে ফিরে এসেছেন বাবা-মা। তারপরে এক দীর্ঘ আইনি জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার ঘরের মেয়ে ফিরেছে ঘরে।