সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরের এমআইটি মোড়ে বাবা বিশ্বেশ্বরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা ঘিরে শনিবার এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ দেখা গেল। এদিন মহিলারা ১০৮টি কলসে করে দ্বারকেশ্বর থেকে জল এনে বাবার মাথায় ঢালেন। তারপর হোমযজ্ঞ ও পূজার্চনার মাধ্যমে শিবের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়। দুপুরে প্রায় দু’হাজার মানুষকে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। মন্দির কমিটির কর্মকর্তারা জানান, এলাকায় ৮-১০টি গ্রামের মধ্যে শিবমন্দির নেই। সেকারণে তাঁরা সবাই মিলে এমআইটি মোড়ে একযোগে মন্দির প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছেন। কমিটির কর্মকর্তা রাজা পাল বলেন, এই এলাকায় শিবমন্দির না থাকায় মহিলাদের মনে আক্ষেপ ছিল। শিবরাত্রি, শ্রাবণ মাসে জল ঢালা সহ নানা সময়ে শিবপুজোর জন্য তাঁদের দূরে যেতে হয়। সেজন্য আমরা এমআইটি মোড়ে বাবা বিশ্বেশ্বরের মন্দির প্রতিষ্ঠা করছি। এদিন ধুমধাম করে বাবার প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
কমিটির অপর এক কর্মকর্তা দীপঙ্কর লোহার বলেন, বাঁধগাবা, পানশিউলি, কামারপুকুর, আঁইচবাড়ি, ময়রাপুকুর, মধুবন, মাধবপুর, গোপালপুর, শিরোমণিপুর, কানগোড়, বাবুরডাঙা প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বাবা বিশ্বেশ্বরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। কমিটির অপর সদস্য হুনা লোহার বলেন, শনিবার বাবার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হল। আপাতত মন্দিরের কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী দিনে মানুষের সহযোগিতায় মন্দির তৈরি করা হবে।
রবিবার অন্তত একহাজার মানুষ শুশুনিয়া থেকে জল এনে শিবের মাথায় ঢালবেন। তাঁদের প্রত্যেকের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বাঁধগাবা গ্রামের মহিলারা জানান, বিশ্বেশ্বরের মন্দির হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছি। আমাদের এলাকা জঙ্গল অধ্যুষিত। শিবরাত্রিতে অন্য এলাকায় গিয়ে রাত জাগা সম্ভব হয় না। তাই গ্রামেই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে শিবঠাকুর রেখে আরাধনা করতে হয়। এবার থেকে এমআইটি মোড়ে শিবপুজো করা সম্ভব হবে। আর বাইরে যেতে হবে না।