Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ি পেয়েও ফের আবাসে নাম, বিতর্কে কাটোয়ার তৃণমূল প্রধান

বাড়ি পেয়েও ফের আবাসে নাম, বিতর্কে কাটোয়ার তৃণমূল প্রধান
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: আবাস যোজনার তালিকায় এক মহিলার নামে পাঁচটি বাড়ি নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। এর মধ্যেই আবাসের তালিকায় খোদ পঞ্চায়েত প্রধানের নাম ঘিরে কাটোয়ার জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতে শোরগোল পড়ল। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দু’বছর আগে পাকা বাড়ি পেয়েছেন ওই পঞ্চায়েতের প্রধান। ফের বাংলা আবাস যোজনার তালিকায় তাঁর নাম আসায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এনিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। অন্যদিকে পেশায় টোটোচালক কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরির পঞ্চায়েত প্রধান আবার আবাসের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। কাটোয়া মহকুমার দুই পঞ্চায়েতের প্রধানের ভিন্ন ভূমিকা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। 
Advertisement
কাটোয়া-২ ব্লকের জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতে ৪৭১জন উপভোক্তার নাম এসেছে আবাস তালিকায়। প্রতিদিন সার্ভে করে দেখা হচ্ছে। সেখানেই এক চাঞ্চল্যকর কাণ্ড উঠে এসেছে। সুদেষ্ণা রায় নামে এক মহিলার নামে পাঁচবার আলাদা গ্রামে আলাদা স্বামীর নাম দিয়ে আবাস তালিকায় নাম এসেছে। আদতে ওইসব গ্রামে ওই নামে কোনও মহিলা নেই। এমনকী ওই মহিলার যে স্বামীর নাম দেওয়া হয়েছে সেখানে দেখা গিয়েছে কেউ ৩০বছর আগে আবার কেউ সাত বছর আগে মারা গিয়েছেন। কেউ আবার আছেন। কিন্তু তাঁদের স্ত্রীর নাম আলাদা। এরমধ্যেই বাংলা আবাসের তালিকায় নাম এসেছে জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের প্রধান হারু দাসের। আমডাঙা দাসপাড়ায় একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে তাঁর। সেটি যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ২০২২সালে পেয়েছেন সেটা বোঝাই যাবে না। এখনও বাড়ির কাজ চলছে। তবে নতুন করে ফের আবাসের তালিকায় প্রধানের নাম এল কী করে তা নিয়েই ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও প্রধান হারু দাস সাফাই দেন, প্রথমে আমার মা কনকলতা দাসের নামে আবাস যোজনায় বাড়ি এসেছিল। পরে মা মারা যান। তারপর আমরা ওই বাড়ি ২০২২সালে শেষ করি। আবাস যোজনায় ফের আমার নাম কেন এল বুঝতে পারছি না। আমার নাম বাদ দেওয়ার জন্য সরকারি অফিসারদের বলেছি।
দু’দিন আগেই কেতুগ্রাম-২ বিডিওর কাছে লিখিত আবেদন জানান গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের প্রধান টোটোচালক গোপাল হাজরা। তিনি আবেদন করেন, আবাস যোজনার সার্ভে হওয়ার সময় তাঁর মাটির বাড়ি ছিল। কিন্তু বর্তমানে তাঁর বাড়ি পাকা হয়েছে। তাই আবাস যোজনায় বাড়ি চান না। উল্লেখ্য, ওই পঞ্চায়েতের বহরান গ্রামের ৬ নম্বর সংসদ থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন গোপালবাবু। 
শাসকদলের দুই পঞ্চায়েত প্রধানকে নিয়ে এলাকায় জোর চর্চা চলছে। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, একজন প্রধান নিজে টোটোচালক হয়েও আবাসের তলিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিতে সটান বিডিও অফিসে গেলেন। জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের প্রধান একবার বাড়ি পেয়েও ফের আবাসের তালিকায় নাম আসা সত্ত্বেও না নেওয়ার আবেদন করেননি। 
কাটোয়ার বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য বলেন, শাসকদলের প্রধানদের নাম আবাস তালিকায় সব জায়গাতেই এসেছে। এটা আসলে সরকারি টাকা লুট করার জন্যই করছে। তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা দরকার। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি ওই প্রধানকে বলেছি, লিখিতভাবে আবাসের তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে।
সম্পর্কিত সংবাদ