অগ্নিভ ভৌমিক, কালীগঞ্জ (চাঁদঘর): দেড় দশক আগে পোস্তর চাষ দিয়েই গ্রামে হানা দিয়েছিল মাদকের ‘ভাইরাস’। তখন প্রশাসনিক তৎপরতায় পোস্ত গাছ নির্মূল হয়। কিন্তু ধ্বংস করা যায়নি ভাইরাসকে। মহামারির মতো তা ছড়িয়ে পড়ে। এখন তার চেহারা ভয়ঙ্কর! হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। সেই ভাইরাস আসলে হেরোইনের নেশা। নাগাড়ে সেবনে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অসড়াতা সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত কালীগঞ্জের বড় চাঁদঘরের বাসিন্দারা। চাঁদঘরে এ এক কলঙ্ক!
Advertisement
সেই ‘কলঙ্ক’-এর দৌলতে গ্রামের জনস্বাস্থ্য ঘোরতর সংকটে। গ্রামবাসী নজুলা মল্লিক আক্ষেপের সুরে বলছিলেন, ‘আমাদের গ্রামে ছেলে-বুড়োরা নেশার ঘোরে পাগল হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ হাঁটাচলার ক্ষমতাও হারিয়েছেন।’ গ্রামে তাঁদের খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, কোনও পরিবারের সদস্যের চিকিৎসা চলছে। কারও বা দিন কাটছে নেশামুক্তি কেন্দ্রে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে মাসে মাসে খসছে মোটা টাকা। এমনকী, মৃত্যুও পর্যন্ত হচ্ছে। তাতেও ভ্রূক্ষেপ নেই গ্রামবাসীদের একটা বড় অংশের। হেরোইনের প্রতি আসক্তি দিনদিন বেড়েই চলেছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছুটা সুরাহা দিচ্ছে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প।
বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েতের ছোট চাঁদঘর এলাকার পূর্বপাড়ার রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেই তন্দ্রাচ্ছন্ন ভবঘুরেদের চোখে পড়বেই। নিজের কঙ্কালসার চেহার। বাড়িতে ঢুঁ মারলে পরিবারের ততোধিক কঙ্কালসার চোখ এড়াবে না। চরম দারিদ্রতার ছাপ ঘরের চতুর্দিকে। অর্থের অভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে ছেলে-মেয়েরা। ঘরণীরাও বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত। বিবর্ণ মুখ তাঁদের। এমনই এক নেশাড়ুর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। আঙুল উঁচিয়ে বলছিলেন, ‘ওই যে গ্রামখানি দেখছেন ওটা নলদহ। গ্রামটি আমার কাছে এখন সতীন। স্বামী সারাদিন ওখানেই বসে থাকে। হেরোইন খায়। খেতে খেতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আগে ওর স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল। এখন রোগা পাতলা। নেশামুক্তি কেন্দ্রে নিয়ে গেলে মাসে লাগবে ৬ হাজার টাকা। এত টাকা পাবো কোথায়?’ বলেই আঁচলে মুখ ঢাকলেন তিনি।
সম্প্রতি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সমীক্ষা করতে বড়চাঁদঘরে গিয়েছিলেন ব্লক প্রশাসেনর আধিকারিকরা। বাড়ির জন্য নাম এসেছিল নেশায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির। তিনি কোথায় জানতে চাইলে, ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, মাটির কুঁড়ে ঘরের এক কোনে মশারির ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় শুয়ে রয়েছেন তিনি। নেশার চিকিৎসা করিয়েছেন কিছুদিন আগে। অপারেশন হয়েছে তাঁর। গোটা পরিপাক তন্ত্রকেই নষ্ট করে দিয়েছে হেরোইন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই অপারেশান হয়েছিল।
সেই অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন কালীগঞ্জের বিডিও অঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলছিলেন, ‘বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সময় বড় চাঁদঘর গ্রামে সমীক্ষা করতে গিয়েছিলাম। নেশা করার জন্য কিছু মানুষকে শয্যাশায়ী অবস্থায় দেখেছিলাম। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বাইরে থেকে তাঁদের চিকিৎসাও হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’
গ্রামের শেষ প্রান্তে কুঁড়েঘরে বাস সাহেরা বিশ্বাসের (নাম পরিবর্তিত)। তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে নেশার করতে গিয়ে মারা গিয়েছে। আর এক ছেলে হেরোইনের নেশা করে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। কখনও বাড়ি আসে, কখনও আসে না। কি করবো বুঝতে পারছি না।’
বুঝলেও যে কিছু করে উঠতে পারবেন, সেই ভরসা দেওয়ার লোক কোথায়? কিছুটা হলেও ভরসা দিচ্ছেন কালীগঞ্জ ব্লকের বিএমওএইচ তিমির ভদ্র। তিনি বলেন, ‘ওই গ্রামের সমস্যা নিয়ে আমরাও অবগত। বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত কত, তা নিয়ে সমীক্ষা হবে।’
কিন্তু নলদহের হেরোইন-বৈভব ঠেকাবে কে? নিরুত্তর সব মহলই!
বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েতের ছোট চাঁদঘর এলাকার পূর্বপাড়ার রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেই তন্দ্রাচ্ছন্ন ভবঘুরেদের চোখে পড়বেই। নিজের কঙ্কালসার চেহার। বাড়িতে ঢুঁ মারলে পরিবারের ততোধিক কঙ্কালসার চোখ এড়াবে না। চরম দারিদ্রতার ছাপ ঘরের চতুর্দিকে। অর্থের অভাবে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে ছেলে-মেয়েরা। ঘরণীরাও বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত। বিবর্ণ মুখ তাঁদের। এমনই এক নেশাড়ুর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। আঙুল উঁচিয়ে বলছিলেন, ‘ওই যে গ্রামখানি দেখছেন ওটা নলদহ। গ্রামটি আমার কাছে এখন সতীন। স্বামী সারাদিন ওখানেই বসে থাকে। হেরোইন খায়। খেতে খেতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আগে ওর স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল। এখন রোগা পাতলা। নেশামুক্তি কেন্দ্রে নিয়ে গেলে মাসে লাগবে ৬ হাজার টাকা। এত টাকা পাবো কোথায়?’ বলেই আঁচলে মুখ ঢাকলেন তিনি।
সম্প্রতি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে সমীক্ষা করতে বড়চাঁদঘরে গিয়েছিলেন ব্লক প্রশাসেনর আধিকারিকরা। বাড়ির জন্য নাম এসেছিল নেশায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির। তিনি কোথায় জানতে চাইলে, ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, মাটির কুঁড়ে ঘরের এক কোনে মশারির ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় শুয়ে রয়েছেন তিনি। নেশার চিকিৎসা করিয়েছেন কিছুদিন আগে। অপারেশন হয়েছে তাঁর। গোটা পরিপাক তন্ত্রকেই নষ্ট করে দিয়েছে হেরোইন। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডেই অপারেশান হয়েছিল।
সেই অভিজ্ঞতার কথা শোনাচ্ছিলেন কালীগঞ্জের বিডিও অঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলছিলেন, ‘বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সময় বড় চাঁদঘর গ্রামে সমীক্ষা করতে গিয়েছিলাম। নেশা করার জন্য কিছু মানুষকে শয্যাশায়ী অবস্থায় দেখেছিলাম। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে বাইরে থেকে তাঁদের চিকিৎসাও হয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।’
গ্রামের শেষ প্রান্তে কুঁড়েঘরে বাস সাহেরা বিশ্বাসের (নাম পরিবর্তিত)। তিনি বলেন, ‘আমার এক ছেলে নেশার করতে গিয়ে মারা গিয়েছে। আর এক ছেলে হেরোইনের নেশা করে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। কখনও বাড়ি আসে, কখনও আসে না। কি করবো বুঝতে পারছি না।’
বুঝলেও যে কিছু করে উঠতে পারবেন, সেই ভরসা দেওয়ার লোক কোথায়? কিছুটা হলেও ভরসা দিচ্ছেন কালীগঞ্জ ব্লকের বিএমওএইচ তিমির ভদ্র। তিনি বলেন, ‘ওই গ্রামের সমস্যা নিয়ে আমরাও অবগত। বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত কত, তা নিয়ে সমীক্ষা হবে।’
কিন্তু নলদহের হেরোইন-বৈভব ঠেকাবে কে? নিরুত্তর সব মহলই!



