সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করতে হয়েছে মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকুও। কিন্তু তারপরেও কুড়ি বছরের একমাত্র ছেলে এখনও সুস্থ হয়নি। অকূল পাথারে পড়েছেন নবদ্বীপ চরব্রহ্মনগরের পূর্বপাড়ার স্বামীহারা মিনা দেবনাথ। তাঁর দাবি, কৃষ্ণনগর, কলকাতা, বহরমপুরের মতো বিভিন্ন মানসিক হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসার অভাবে ছেলের রোগ আরও বেড়ে চলেছে। বাধ্য হয়েই ছেলেকে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়।
Advertisement
স্থানীয়রা জানান, মিনা দেবীর ছেলে রাজ ছোট থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন। মিনা দেবনাথ দু’ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। তাঁর চার মেয়ে ও একমাত্র ছেলে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এখন মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে ও বছর বাইশের মেয়ে পূর্ণিমাকে নিয়ে মিনাদেবীর সংসার। রাজ হাঁটাচলা করতে পারলেও কথা বলতে পারে না। নিজের হাতে খেতে পারে না। ছাড়া পেলে এদিক ওদিক চলে যায় এবং বাড়ির লোকজনকে মারধর করে। সেই কারণে ওকে বেঁধে রাখতে হয়। মিনা দেবী জানান, রাজের বাবা তাঁতের কাজ করতেন। বছর দুই আগে তিনি মারা যান। এখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে মিনাদেবী নিজেও সেভাবে কোনও কাজ করতে পারেন না। উপার্জন বলতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা আর মেয়ের টিউশনির টাকা। তাতেই কোনওরকমে সংসার চলে। রাজ প্রতিমাসে যে প্রতিবন্ধী ভাতা পায় সেটা তার ওষুধ কিনতেই লেগে যায়। তিনি আরও জানান, এর আগে বেশ কয়েকবার রাজকে চিকিৎসার জন্য কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। গত বছর জানুয়ারি মাসে আদালতের নির্দেশে ওকে গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বহরমপুরে। আশা করেছিলাম সেখানে ভর্তি করে দিলে ছেলের চিকিৎসা হবে। কিন্তু ওখানকার মেডিক্যাল বোর্ড বলে দিয়েছিল, ওকে রাখা যাবে না। ওর নার্ভের সমস্যা আছে। চিকিৎসকরা কিছু ওষুধ লিখে দেন। সেই ওষুধ প্রতিমাসে বহরমপুর থেকে নিয়ে আসতে হয়। যত দিন যাচ্ছে তত যেন ছেলের মধ্যে উগ্রতা বাড়ছে। কাঁদতে কাঁদতে মিনাদেবী বলেন, ছেলেকে যদি কোনও সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করানো যেত তাহলে হয়তো সুস্থ হয়ে যেত। এখন তার চিকিৎসার জন্য প্রায় আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। প্রতিবেশী বৃদ্ধ খোকন শর্মা ও স্থানীয় কাছারীঘাট এলাকার বাসিন্দা রাজু সরকার বলেন, ছেলেটিকে সুস্থ করার জন্য ছোট থেকেই ওর মা অনেক চেষ্টা করেছেন। এখন সরকারি সাহায্যে তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে হয়ত সুস্থ হয়ে উঠত।
চরমাজদিয়া–চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপন দেবনাথ বলেন, ওই পরিবারটিকে প্রয়োজনে অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকী সরকারি সব রকম সুযোগ-সুবিধা যাতে পরিবারটি পায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কোনও এনজিও পাওয়া গেলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। -নিজস্ব চিত্র
চরমাজদিয়া–চরব্রহ্মনগর পঞ্চায়েতের প্রধান স্বপন দেবনাথ বলেন, ওই পরিবারটিকে প্রয়োজনে অবশ্যই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এমনকী সরকারি সব রকম সুযোগ-সুবিধা যাতে পরিবারটি পায়, তার ব্যবস্থা করা হবে। কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কোনও এনজিও পাওয়া গেলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। -নিজস্ব চিত্র



