পরামর্শে ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট আয়ুর্বেদিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এর প্রাক্তন অধ্যাপক প্রদ্যোত্ বিকাশ কর মহাপাত্র।
পরামর্শে ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট আয়ুর্বেদিক এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এর প্রাক্তন অধ্যাপক প্রদ্যোত্ বিকাশ কর মহাপাত্র।
আয়ুর্বেদেও রয়েছে চোট আঘাতের আপদকালীন চিকিত্সা। আর তা রয়েছে হাতার নাগালের মধ্যেই। প্রকৃতি মায়ের বুকেই রয়েছে ছেঁড়া, কাটা, ফোলা, ব্যথার নিরাময়ের উপায়। আমাদের শুধু চিনে নিতে হবে সেই সব উপাদানকে।
• ছোটখাট আঘাত লেগে শরীরে কোথাও ছড়ে গেলে ও কেটে গেলে, সামান্য রক্ত বেরলে দূর্বা ঘাস থেঁতো করে তার রস ক্ষতস্থানে লাগানো যেতে পারে।
• কেটে গিয়ে রক্ত থামতে না চাইলে জায়গাটি জলে ধুয়ে ফটকিরি দিয়ে ক্ষত স্থানে চেপে ধরলে রক্ত থেমে যাবে। আয়াপান পাতার রস দিয়েও রোধ করা যায় রক্তপাত।
• ফটকিরির অভাবে গাঁদা ফুল গাছের পাতা থেঁতো করেও ক্ষতস্থানে চেপে ধরলে রক্ত থেমে যায়। এমনকী এই পাতা অ্যান্টিসেপটিক এজেন্ট হিসেবেও কার্যকরী।
• কোনও জায়গা পুড়ে গেলে সেই জায়গায় নারকেল তেল লাগালে মিলবে উপকার। এমনকী রোধ কখনও কখনো ফোসকা পড়াও রোধ হহয়।
• খেলতে গিয়ে বা ধাক্কা লেগে শরীরের কোথাও চোট লেগে খুব ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে আঘাত লাগার জায়াগায় কাপড়ের টুকরোয় বরফ বেঁধে সেক দিন। একটানা পাঁচ মিনিট সেক দিলে উপকার হবে। পরে ওই জায়গায় দিতে হবে ঠান্ডা ও গরম জলের সেক।
• ব্যথা কমানোর আরও কিছু ঘরোয়া ওষুধ আছে। যেমন রসুন থেঁতো করে সেই রসুনকে নুন ও সর্যের তেলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই তেল দিয়ে ব্যথা ও ফোলার জায়গায় মাসাজ করলে ফোলা এবং ব্যথা কমবে।
এছাড়া সর্ষের তেলে, কালো জিরে, সৈন্ধব লবণ দিয়ে সেই তেল ফুটিয়ে নিয়ে ওই তেল ঠান্ডা করে ব্যথার জায়গায় মালিশ করলেও ফোলা এবং ব্যথা কমে। এমনকী চড়-থাপ্পড় খেয়েও যে ব্যথা হয় তাতেও কাজে এই দুই ধরনের তেল।
• আতপ চালের ভাত তৈরি করে মাড় সহ, একটি পুঁটলি করে ব্যথার জায়াগায় সেক দিলেও কমে ব্যথা ও ফোলা। এমন ব্যথার জায়াগায় দেওয়া যেতে পারে সৈন্ধব লবণ ও আকন্দ পাতার পুঁটলির সেকও।
• কাটা-ঘা অনেকদিন ধরে না শুকোলে ক্ষতে লাগানো যায় কল্কে ফুলের আঠা।
• কাঁটাজাতীয় কিছু ফুটে প্রবল ব্যথা হলে ওই ক্ষতস্থানে হলুদ বাটা ও চুন একসঙ্গে ফেটিয়ে চাপ দিয়ে বেঁধে রাখলে আরাম পাওয়া যায়। -- লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক