Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোর আগেই অযোধ্যার হোটেলে বুকিংয়ের চাপ, ছোট লজে এখনও মিলছে ঘর

পুজোর মরশুম শুরু হতে এখনও কিছুদিন বাকি। তার আগেই অযোধ্যা পাহাড়ে হোটেলগুলিতে শুরু হয়েছে বুকিংয়ের চাপ

পুজোর আগেই অযোধ্যার হোটেলে বুকিংয়ের চাপ, ছোট লজে এখনও মিলছে ঘর
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঝালদা: পুজোর মরশুম শুরু হতে এখনও কিছুদিন বাকি। তার আগেই অযোধ্যা পাহাড়ে হোটেলগুলিতে শুরু হয়েছে বুকিংয়ের চাপ। পুজোর কয়েক দিনের জন্য নামী হোটেল ও রিসর্টগুলির অধিকাংশ ঘর ইতিমধ্যেই বুক হয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি। তবে ছোটোখাটো লজ ও কিছু হোম স্টেতে এখনও ঘর মিলছে। শুধু পুজো নয়, পুজোর পরেও পর্যটকদের আনাগোনা অব্যাহত থাকায় আগেভাগেই ঘর বুক করতে শুরু করেছেন পর্যটকরা।

Advertisement

অযোধ্যা পাহাড়ে পর্যটনের মরশুম মূলত পুজোর সময় থেকেই জমে ওঠে। শরৎ পেরিয়ে শীতকালেও পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। এরপর শীতের ছুটি, বড়দিন, নতুন বছর পেরিয়ে বসন্তের মরশুমে ফের পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, হোলি পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনা থাকায় এবার অনেকেই শুধু পুজোর কয়েকদিনের জন্য নয়, পরবর্তী সময়ের জন্যও আগাম বুকিং করছেন।
এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, ‘পুজোর সময়ের জন্য আমাদের অধিকাংশ ঘর আগেই বুক হয়ে গিয়েছে। এখন পুজোর পরের সময়ের জন্যও ফোন আসছে। পর্যটকরা আগে থেকেই ঘর নিশ্চিত করে রাখতে চাইছেন।”
হোটেল ও লজ মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সুজিত কুমার বলেন, পর্যটন মন্ত্রীকে লিখিত দিয়েছিলাম আমি যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য। কারণ পুরুলিয়ার বলরামপুর পর্যন্ত আসার ট্রেনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। আগে ট্রেন ছিল, কিন্তু এখন একটাই ট্রেন ভরসা সিকেপি। সেটাও প্রচুর লেট করে কোনো কোনো দিন। গাড়ি নিয়ে যারা আসছেন, তাঁদের অনেক ব্যয়বহুল হচ্ছে ট্রিপটা। ট্যুরিজম নিয়ে আমরা আশার আলো দেখছি, কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আমাদের মনে হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানো হলে ভালো হয়। এখনও বুকিং হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আগের মতো ফ্লো নেই। 
একটি হোম স্টে মালিকের কথায়, ‘বড়ো হোটেলগুলিতে ঘর পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবে ছোট লজ ও হোম স্টেগুলিতে এখনও কিছু ঘর রয়েছে। পুজোর দিনগুলির জন্য সেগুলিও দ্রুত বুক হয়ে যাচ্ছে।’
পর্যটকদের মধ্যেও এবার আগেভাগে বুকিংয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে অযোধ্যায় আসতে চলা এক পর্যটক জানান, পুজোর সময় পাহাড়ে থাকার জন্য শেষ মুহূর্তে ঘর পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই আগে থেকেই বুক করে রাখছেন তাঁরা। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, বিশেষ করে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত থাকার জায়গার চাহিদা বেশি।
শুধু থাকার জায়গা নয়, পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে গাড়ি, খাবারের দোকান, মুখোশ ও হস্তশিল্পের ব্যবসাতেও পুজোর মরশুমকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের আনাগোনা পুজোর পরেও কয়েক মাস চলায় স্থানীয় অর্থনীতির উপর তার প্রভাব পড়ে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশাসনের নজর রয়েছে। ইতিমধ্যেই অযোধ্যার আপার ড্যামের সামনে পুলিশের ট্যুরিস্ট হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে। পর্যটকদের সতর্ক করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি জেলা পুলিশের তরফে হেল্পলাইন ও বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে। হোটেল, হোম স্টে ও লজে আসা-যাওয়া করা পর্যটকদের তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুজোর আগেই অযোধ্যায় থাকার জায়গাগুলিতে যে আগাম বুকিংয়ের চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে এ বছরও দীর্ঘ পর্যটন মরশুমের আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ