Bartaman Logo
২২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

দূষণ কমাতে আইন নয়, জরুরি সচেতনতা

দূষণ কমাতে আইন নয়, সচেতনতার গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে সচেতনতা বদলাতে পারে পরিস্থিতি? বিস্তারিত পড়ুন।

দূষণ কমাতে আইন নয়,  জরুরি সচেতনতা
  • ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে

Advertisement

সোহিনী কর্মকার
দূষণ বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। চারদিকে বিশালাকার কলকারখানার বিস্তার, সেইসঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় ইত্যাদি দূষণের অন্যতম কারণ। সুতরাং কোনো আইন নয়, সঠিক সচেতনতা এবং দেশের সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের মানসিকতা উন্নত করার দিকে মনোনিবেশ করাই হবে এই দূষণ প্রতিরোধের একমাত্র ওষুধ।
কলেজ ছাত্রী 

অদৃতা সাহা
আমাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপের ফলে দূষণ হয় সবথেকে বেশি। তাই আমাদের নিজেদের কাজকর্মের প্রতি সচেতন হওয়া উচিত। মানুষ যদি নিজে থেকে দূষণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি না করে তাহলে শুধু আইন দিয়ে ভয় দেখিয়ে তা করা সম্ভব নয়। মানুষ এই বিষয়ে সচেতন হলে দূষণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই দূষণ কমাতে আইন নয়, জরুরি সচেতনতা।
কলেজ ছাত্রী 

চৈতালী দাস
আইন করে কতজনকে ধরবে পুলিশ? কে কোথায় গোপনে কীভাবে দূষণ ছড়াচ্ছে, আমাদের এই বিরাট জনসংখ্যার দেশে তা জানা সম্ভব? প্রতিটি মানুষ যদি সচেতন হয়, নিজের মধ্যে সেই সচেতনতাবোধটা থাকে যে, যেমনভাবে নিজের ঘরটা পরিষ্কার রাখা হয়, সেভাবেই নিজের এলাকা পরিষ্কার রাখব, সঠিক জায়গায় আবর্জনা ফেলব। কেউ অন্যথা করলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করব, তাহলেই দূষণ ছড়ানো বন্ধ হবে। 
গৃহবধূ

 প্রশান্ত কুমার দাস
ছোটোবেলায় বইতে দূষণের কারণ বললে ‘সচেতনতা’ পয়েন্ট হিসেবে দেওয়া থাকত সবার শেষে। কিন্তু আজকের সমাজে ‘সচেতনতা’কে সবথেকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আইন শুধু কথায় থাকে, সচেতনতা মনের সর্বত্র জাগরিত করে, তথা ঠিক ভুল চিনতে শেখায়। এছাড়া আইন সরকার তৈরি করলেও বাস্তবায়ন মানুষকেই করতে হয়। মানুষই দূষণ ঘটায়। আবার সেই মানুষই পোস্টার, প্ল্যাকার্ড হাতে সচেতনতার বার্তা দেয়। সুতরাং এই সচেতনতাই হল দূষণ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহক। 
শিক্ষক

বিপক্ষে

সঙ্গীতা নস্কর
বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় দূষণ রোধে সচেতনতা প্রয়োজন। কিন্তু শুধু সচেতনতা দিয়ে দূষণ রোধ করা যাবে না। আইনে কড়াকড়ি না হলে সচেতন মানুষও ধীরে ধীরে অসচেতন হয়ে পড়বে। আইনের ভয় থাকলে তবেই জনগণ সচেতন থাকবে এবং দূষণ রোধ হবে। 
গৃহবধূ 

বিদিশা মাইতি মণ্ডল
সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকেই প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বিরোধের সূত্রপাত। যার ফলে আজ নানা দূষণ পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। এই সর্বগ্রাসী বিপর্যয় রোধ করতে কেবল নৈতিকতার বুলি আওড়ানো বা অনুরোধ করা যথেষ্ট নয়। মানবজাতির পতনশীল মনস্তত্ত্ব সহজে দায়িত্ব এড়াতে চায়। তাই শৃঙ্খলার জন্য কঠোর আইনের শাসন অত্যন্ত জরুরি। মাথার ওপর শাস্তির খাঁড়া ঝুললে মানুষ বাধ্য হয়ে নিয়ম মানে, যা পরবর্তীতে অভ্যাসে পরিণত হয়। 
শিক্ষিকা

কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস
জীবকুলের  মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান জীব ‘মানুষ’, এ কথা সত্যি। কিন্তু বাস্তবের জলছবিতে ‌তথাকথিত সভ্য, শিক্ষিত ও সাধারণ নাগরিকরা মূলত- ‘জ্ঞানপাপী’। তাঁদের কর্মকাণ্ড ও নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির পরিণাম হিসাবে পরিবেশে দূষণের মাত্রা দিন-দিন বেড়েই চলেছে। দূষণ কমাতে সচেতনতার প্রচার কাম্য, কিন্তু একমাত্র রক্ষাকবচ নয়। পরিবেশের দূষণ কমানোর বীজমন্ত্র হওয়া উচিত আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত আইনের সঠিক প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারি। 
স্কুল শিক্ষক

কৌশিক  দাস
আইন ছাড়া কেবল সচেতনতার উপর ভরসা করে পরিবেশ দূষণ কমানো একেবারেই অসম্ভব। সচেতনতা তৈরি হতে সময় লাগে, কিন্তু দূষণের প্রকোপ প্রতি মুহূর্তে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। মানুষ নিজের সুবিধার জন্য প্লাস্টিক বর্জন বা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো বিষয়টি জেনেও এড়িয়ে যায়। সেখানে কড়া আইন, ভারী জরিমানা এবং কঠোর শাস্তির ভয় না থাকলে কেউ নিয়ম মানতে বাধ্য হয় না। তাই দূষণ রুখতে সচেতনতার মিষ্টি কথার চেয়ে আইনি চাবুকই সবচেয়ে বেশি জরুরি।
ছাত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ