নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ‘তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল। এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ ‘ছাড়পত্র’ কবিতায় সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা এই কথাগুলিই বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল বহরমপুরের গ্র্যান্ট হল প্রাঙ্গণে। নির্মল ও সুস্থ পরিবেশ গড়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে সেখানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চাইল্ড ইন নিড ইন্সটিটিউট(সিনি)। শুধু বহরমপুরই নয়, জেলাজুড়ে বিভিন্ন ব্লক ও পুর এলাকার স্কুল, স্থানীয় ক্লাব, পঞ্চায়েত ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে মিলে সিনি দিনটি উদযাপন করে।
সিনি’র তরফে জানানো হয়েছে, এবছর তাদের কর্মসূচির থিম ছিল ‘বিট প্লাস্টিক পলিউশন’। জেলাজুড়ে প্রায় ৩৮০০কিশোর-কিশোরী নানাভাবে তাদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। প্লাস্টিকমুক্ত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে জেলার নানা জায়গায় র্যালি, কুইজ, আঁকা প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী, বৃক্ষরোপণ ও সাফাই অভিযান হয়েছে। জেলার নানা এলাকায় এরকম সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে স্কুলশিক্ষক, ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েতের আধিকারিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বহরমপুর শহরে সিনি আঁকা প্রতিযোগিতা, চারাগাছ বিলি সহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠান আয়োজনে সিনিকে সহযোগিতা করে ধান্যগঙ্গা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র ও মিশন গ্রিন ইউনিভার্স। এদিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী সমর্পণ চক্রবর্তী, মিশন গ্রিন ইউনিভার্সের কর্ণধার অর্ধেন্দু বিশ্বাস, বিশিষ্ট পরিবেশবিদ কাবেরী বিশ্বাস, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পুষ্পক পাল, নমামী গঙ্গে’র ডিস্ট্রিক্ট প্রোজেক্ট অফিসার সাত্যকি জানা প্রমুখ।
সিনির তরফে জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, বড়দের সঙ্গে সঙ্গে ছোটরা পরিবেশকে কীভাবে নির্মল রাখতে চাইছে, সেই ভাবনা তারা ছবি এঁকে তুলে ধরেছে। আগামী প্রজন্মকে সুস্থ, স্বাভাবিক পরিবেশ উপহার দিতে আমরা এই আয়োজন করেছি।
সমর্পণবাবু বলেন, পরিবেশকে বাঁচাতে আমরা চারাগাছ বিলির পাশাপাশি ছত্রাকনাশক বিলি করলাম। উদ্দেশ্য একটাই, গাছ বাঁচানো ও তার যত্ন নেওয়া।
কাবেরীদেবী বলেন, যে সহজলভ্য প্লাস্টিক আমাদের রোজকার জীবনে জায়গা করে নিয়েছে, তার বদলে যদি আমরা মাটি, কাপড় বা স্টিলের সামগ্রী ব্যবহার বাড়াতে পারি-তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশ দিয়ে যেতে পারব। অর্ধেন্দুবাবু বলেন, আমরা যদি প্রতিদিন একটি গাছ কাটার পরিবর্তে পাঁচটি কাজ লাগাই-তাহলে আগামী প্রজন্ম সুস্থ পরিবেশ উপহার পাবে।