Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বর্ষায় সংক্রমণ এড়ান

ভিজে পথঘাট। জলকাদায় মোড়া চারপাশ। এমন সময়ে বাইরে বেরতে গেলে বৃষ্টির জল পায়ে লাগবেই। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পায়ের ত্বকেও নানা ক্ষতি হয়। তাহলে উপায়? কী করবেন? রইল সমাধান।

বর্ষায় সংক্রমণ এড়ান
  • ২৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ভিজে পথঘাট। জলকাদায় মোড়া চারপাশ। এমন সময়ে বাইরে বেরতে গেলে বৃষ্টির জল পায়ে লাগবেই। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পায়ের ত্বকেও নানা ক্ষতি হয়। তাহলে উপায়? কী করবেন? রইল সমাধান। 

Advertisement

কুমার রায়ের ছড়ায় সীতানাথ বন্দ্যো সেই কবেই জানিয়েছিলেন, আকাশের গায়ে নাকি টক টক গন্ধ। তবে বৃষ্টির পর সে গন্ধ নাকি একেবারে মিষ্টি হয়। সীতানাথ নাকি খোদ চেটে দেখেছে! ছড়ার মজা থেকে সরে এলে বর্ষা কিন্তু খুব মিষ্টি আভাস এনে দেয় না অফিসযাত্রীদের মনে। বর্ষা মানেই বৃষ্টির সঙ্গে যেন রোজই চোর-পুলিশ খেলা। সকালে উঠেই দেখলেন রোদ ঝলমলে। ঠিক অফিস বা বাজারদোকানে বেরনোর পথে ঝেঁপে বৃষ্টি! আবার ফেরার সময়ও একই রুটিন। প্যাচপেচে কাদায় নাকাল! 
তার উপর আবার দোসর হয়েছে এবছরের নিম্নচাপ। ক্রমাগত বৃষ্টির জেরে রাস্তায় জল-কাদা জমে। স্কুল-কলেজ-অফিসকাছারি যে কোনও কাজে বেরতে গেলেই এই জমা জল ও কাদা পায়ে লাগবে। একটানা বৃষ্টিতে রাস্তায় রাস্তায় জল জমে থাকলে ওই জলে পা ডুবিয়েই গন্তব্যে যেতে হয়! সেই জল লেগে পা শুধু নোংরাই হয় না, পায়ের ত্বকে নানা ক্ষতি হয়। বৃষ্টির দিনে পায়ে বর্ষার জল লেগে র‌্যাশ, এগজিমা, কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা যায়। 
এই প্রসঙ্গে ত্বক বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরুণ আচার জানালেন, ‘বর্ষার জমা জলে পায়ে নানা ধরনের ইনফেকশন হয়। বর্ষার জমা জলে পা অনেকক্ষণ ভিজে থাকলে তা থেকে শ্লেষ্মাজনিত অসুখও হতে পারে। ত্বকের জন্যও এই জল খুব ক্ষতিকর। তাই বর্ষায় গরম জলে পা ধোয়ার কথা সবসময়ই বলা হয়। বাড়ি ফিরে একটু বাড়তি যত্ন নিয়ে পা পরিষ্কার এই ঋতুতে প্রয়োজন। অনেকেই পার্লারে গিয়ে পায়ের নানা যত্ন নেন। সেসব যেমন আর্থিক খরচ বাড়ায়, তেমন রাসায়নিকের ব্যবহারেও ত্বকের ক্ষতি হয়। তার চেয়ে বাড়িতেই কিছু নিয়ম মেনে চলুন।’
তাঁর মতে, প্রতিবার বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এসে যেমন পা পরিষ্কার করার কিছু নীতি নিয়ম আছে, তেমনই বর্ষাকাল জুড়েই নানা নিয়ম মানতে হবে। কী সেসব নিয়ম? 
জুতোয় খেয়াল: বর্ষার জন্য পা ঢাকা জুতো পরুন। সারা বছরের জন্য যেসব জুতো ব্যবহার করেন, বর্ষায় সেগুলো উপযুক্ত নয়। বর্ষার নোংরা জলে প্রচুর ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস থাকে। তাই সেই জল বেশিক্ষণ পায়ে বসতে দেওয়া উচিত নয়। তাই পা ঢাকা জুতো পরবেন না। এমন জুতো বাছুন যেখানে জল ঢুকে বেরিয়ে যেতে পারে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পায়ে বেশি জলকাদা না লাগে। জুতো যেন দ্রুত শুকিয়েও যায়। নইলে সারাদিন ওই ভিজে জল পায়ে বসে ঠান্ডা লাগার শঙ্কাও থাকবে।
পা ধোয়ার নিয়ম: বর্ষায় বাড়ি ফেরার পর শুধু জল দিয়ে পা ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট নয়। বরং একটু গরম জল করে নিন। তাতে লিক্যুইড সাবান বা শ্যাম্পু ফেলে পা ভালো করে ধুয়ে নিন। বাথ সল্ট বা হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট মিশিয়েও পা ধুয়ে নিতে পারেন। এই জলে ১০ মিনিট পা ডুবিয়ে হালকা হাতে পা ঘষেও পা ধুয়ে নিতে পারেন। তারপর শুকনো করে পা মুছে ভালো কোনও ফুট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার মাখিয়ে রাখুন। পায়ে লেবুর খোসা ঘষলেও তা ত্বকের মৃতকোষ সরিয়ে পা ভালো রাখে। ২ মগ গরম জলে ১টি পাতিলেবুর রস মিশিয়ে তাতেও পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এতে বর্ষার জল থেকে হওয়া পায়ের দুর্গন্ধ দূর হবেও ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি কমে যাবে।
ব্যাগে রাখুন টিস্যু: জলে পা ভিজে গেলে গন্তব্যে পৌঁছে জুতো খুলে ব্যাগের ভিতরে রাখুন কাগজের টিস্যু। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ভিজে জুতো বেশিক্ষণ পরে থাকবেন না। পা শুকনো করে মুছে নিন টিস্যুর সাহায্যে। পায়ে কোনও ক্ষত থাকলে অবশ্যই সেই অঞ্চলটি ওয়াটারপ্রুফ ব্যান্ডএড দিয়ে ঢেকে দিন। 
ছত্রাকবিরোধী পাউডার: নোংরা জল থেকে পায়ে ফাঙ্গাস দেখা দিলে পায়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। রাস্তায় বেরনোর আগেও পায়ে অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনার ত্বকের জন্য সেই পাউডার উপযুক্ত কি না, তা ত্বক বিশেষজ্ঞের থেকে জেনে নিন।
শুধু পা ধোয়ার নিয়মেই নয়, বর্ষায় পায়ের যত্নর সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে পায়ের নখের দিকেও। ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্তে নখের কোণে ময়লা জমে নানা সংক্রমণ হয়। পায়ের নখ নিয়মিত পরিষ্কার না করার জন্য ভিজে নখে এই ধরনের জীবাণু জমতে পারে। তাই পায়ের নখের জন্যও কিছুটা সময় বরাদ্দ রাখুন।
• বর্ষায় বড় নখ রাখবেন না। বর্ষার সময় নখ কেটে ছোট করে রাখুন। নখের ফাঁকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া জমার ঝুঁকি এই ঋতুতে বেশি। তাই নখের কোণগুলিও কেটে পরিষ্কার করুন।
 • নেলপলিশ পরার আগে অবশ্যই বেস কোট লাগিয়ে নিন। এক সপ্তাহ অন্তর নেলপলিশ বদলে ফেলুন। পলিশের রং পুরনো হয়ে গেলে তা এমনিই ক্ষয়ে উঠতে থাকে। সেই পলিশ লাগিয়ে জলকাদায় বেরলে পায়ের ক্ষতি বেশি হয়। 
• রাতে ঘুমানোর আগে আঙুলের ফাঁক ও পায়ের নখ ভালো করে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার হালকা করে মেখে নিন। এই রুটিন গোটা বর্ষাকাল জুড়ে মেনে চলতে পারলে পায়ের ত্বকের ক্ষতি আটকানো সম্ভব। 
 মনীষা মুখোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ