সংবাদদাতা, দিনহাটা: গত মার্চ মাস থেকে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিঃশুল্ক ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে দিনহাটা হাসপাতাল প্রথম মাসেই একশোর বেশি রোগীকে ডায়ালিসিস পরিষেবা দিতে সক্ষম হয়েছে। এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে জোর দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে পাঁচজন রোগী এখানে ডায়ালিসিস করাচ্ছেন। শুধু দিনহাটা বা কোচবিহার নয়, প্রতিবেশী জেলা আলিপুরদুয়ার থেকেও কিডনির ওসুখে আক্রান্ত রোগীরা আসছেন এই সুবিধা নিতে। তাই কিডনি রোগে আক্রান্তদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। রাজ্যের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের পরিষেবা চালু থাকলেও দিনহাটার মতো ছোট শহরে বিনামূল্যে ডায়ালিসিস পরিষেবা চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের বাসিন্দারা উপকৃত হচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ডায়ালিসিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এই চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চাপের বিষয়। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের ফলে এখন আর্থিক সমস্যা থাকলেও রোগীরা চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন। রোগীদের পরিবারও সন্তুষ্ট এই পরিষেবা নিয়ে।
এই পরিষেবা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীর সংখ্যা বাড়লে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি ও পরিকাঠামোর উন্নতির জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই পরিষেবা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে।
দিনহাটা শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আইয়ুব আলি বলেন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে কোচবিহারের একটি নার্সিংহোমে ডায়ালিসিস করাতাম আগে।
এখন দিনহাটা হাসপাতালে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস করাই। কোচবিহার যাতায়াত করতে অনেক খরচ পড়ত। সময়ও লাগত অনেকটাই। দিনহাটাতে এই পরিষেবা চালু হওয়াতে অনেক সুবিধা হয়েছে আমার এবং আমার মতো কিডনির রোগে ভোগা অনেক রোগীর।
আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা স্বপন গুহ চৌধুরী বলেন, সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালিসিস করার প্রয়োজন। আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় অত্যাধিক চাপ। তাই এখন দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে এসে ডায়ালিসিস করাচ্ছি। বেসরকারি জায়গায় অনেক টাকা খরচ করে ডায়ালিসিস করার ক্ষমতা আমাদের নেই।
দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ রঞ্জিত মণ্ডল বলেন, ৫ মার্চ থেকে ডায়ালিসিস পরিষেবা শুরু হয়েছে। প্রথম মাসেই ১২৩ জন রোগীর ডায়ালিসিস করা হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন পাঁচজন করে রোগী ডায়ালিসিসের পরিষেবা পাচ্ছেন। নিখরচায় তাঁদের পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে।