নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন। অথচ সকালেই থমকে দাঁড়াল মেট্রো। সুযোগ বুঝে ময়দানে ‘বদলা চাই’ রবে নেমে পড়লেন অটোচালকরা। সোমবার সকাল ন’টা থেকে দশটা, প্রায় ঘণ্টা খানেক শহিদ ক্ষুদিরাম অর্থাত্ গড়িয়ার বৃজি থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার অর্থাত্ টালিগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রো চলাচল বন্ধ ছিল। অফিসে যাওয়ার জন্য স্টেশনে এসে যাত্রীরা দেখেন মেট্রো বন্ধ। প্রবল গরমের মধ্যেই সপ্তাহের প্রথম দিন শুরু হল ভোগান্তি দিয়ে। মেট্রো বন্ধ বলে যাত্রীরা অটো ধরে টালিগঞ্জে যাওয়ার কথা ভাবেন। কিন্তু ভোগান্তি সেখানেও। ভোগান্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন গড়িয়া-টালিগঞ্জ রুটের অটো চালকরা। গড়িয়া থেকে টালিগঞ্জ যেতে কেউ চাইলেন ১৫০ টাকা, কেউ আবার ২০০ টাকা। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘রুটের অটো বন্ধ আছে। তাই রিজার্ভে যেতে হবে।’ ২০ টাকার ভাড়া ১৫০? এমন প্রশ্ন এলেই পাল্টা উত্তর, ‘দিতে পারলে যান। না হলে ছাড়ুন।’
টালিগঞ্জে দাঁড়িয়ে এক অটো চালক নিদান দিলেন, ‘রানিকুঠি আর গাছতলার যাত্রীদেরই নেব। ওঁরাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। গড়িয়ার যাত্রী তুলবই না।’ মেট্রো চালু হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই গড়িয়া থেকে টালিগঞ্জে আসতে গেলে যাত্রীরা মেট্রো ব্যবহার করেন। রানিকুঠি, গাছতলা থেকে টালিগঞ্জ যাওয়ার জন্য কম দূরত্বের ক্ষেত্রে যাত্রীরা সাধারণত অটো ব্যবহার করেন। এবার সুযোগ বুঝে ‘বদলা’ নিলেন অটো চালকরা। মেট্রো যখন চলছে না, সেই সময় গড়িয়া-নাকতলা থেকে অটোই পেলেন না বহু যাত্রী। কারণ, অটো চালকরা টালিগঞ্জ থেকে কাছাকাছি দূরত্বেই যাতায়াত করলেন। আবার টালিগঞ্জ থেকে অটোতে কেউ গড়িয়া যেতে চাইলেও কপালে জুটল খারাপ ব্যবহার। এক ক্ষুব্ধ যাত্রী বলছিলেন, ‘মেট্রো নেই। অটো নেই। অ্যাপ ক্যাব আকাশছোঁয়া দাম চাইছে। শহরের অন্যপ্রান্তে সকলে যখন মেট্রোতে উঠছে। আমাদের বাসে ঝুলে যেতে হচ্ছে।’ ওই রুটে সরকারি কিংবা বেসরকারি বাসের সংখ্যাও ক্রমাগত কমছে। এদিন ৮০এ, ২২৮, এসডি৫, এস৭, এসি৬ বাসগুলোতেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। অটো না পেয়ে বাধ্য হয়েই বাসে উঠতে হয় নিত্যযাত্রীদের। এক যাত্রীদের কথায়, ‘আমাদের তো অফিসে যেতেই হবে। তাই এভাবে ঝুলে ঝুলে যাই।’ নিত্যযাত্রীরা কার্যত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গড়িয়া থেকে টালিগঞ্জে যাতায়াত করেছেন। তার জেরে টালিগঞ্জ, অশোকনগর, মালঞ্চ এলাকাতেও ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।