Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’বছর পর টাকা মিটিয়েছে কর্তৃপক্ষ, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্যের বাসভবন থেকে সামগ্রী সরানোর বিল ৪০ হাজার টাকা! উঠছে প্রশ্ন

শান্তিনিকেতনের ‘পূর্বিতা’ থেকে সুরুল শ্রীনিকেতন। দূরত্ব মেরেকেটে পাঁচ কিলোমিটার। বিশ্বভারতীকে লজিস্টিক সার্ভিস বা জিনিসপত্র পরিবহণ বাবদ বিল মেটাতে হল ৪০ হাজার ৪০০ টাকা! যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।

দু’বছর পর টাকা মিটিয়েছে কর্তৃপক্ষ, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্যের বাসভবন থেকে সামগ্রী সরানোর বিল ৪০ হাজার টাকা! উঠছে প্রশ্ন
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

Advertisement

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের ‘পূর্বিতা’ থেকে সুরুল শ্রীনিকেতন। দূরত্ব মেরেকেটে পাঁচ কিলোমিটার। বিশ্বভারতীকে লজিস্টিক সার্ভিস বা জিনিসপত্র পরিবহণ বাবদ বিল মেটাতে হল ৪০ হাজার ৪০০ টাকা! যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিষয়টি জানাজানি হতে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বভারতীর অন্দরে। 
বছর দুয়েক ধরে বকেয়া বিল না পেয়ে বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য প্রবীর ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন বিদ্যুৎবাবু। কয়েক মাস আগে উপাচার্যকে চিঠিও পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাতে লিখেছিলেন, ‘আমি প্রায় দু’বছর আবেদন নিবেদন করলাম। কোনও ফল হল না। তাই বিশ্বভারতীকে রেহাই দিলাম।’ সম্প্রতি, ওই লজিস্টিক সার্ভিসের বিল মিটিয়ে দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। তবে, অঙ্কটা অবাক করার মতোই! যদিও বুধবার বিদ্যুৎবাবু বলেছেন, ‘আমি তো উপাচার্যকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম ওই টাকা আমার লাগবে না। আমি দান করে দিয়েছি। বিশ্বভারতীকে রেহাই দিলাম। তারপরও বিল মেটাতে গেল কেন? এমনিতেও বিশ্বভারতীর উন্নয়ন তহবিলে আমি ৫ লক্ষ টাকা দান করে এসেছিলাম।’ টাকার অঙ্ক নিয়ে বলতে গিয়ে প্রাক্তন উপাচার্য বলেন, ‘আমার কিছু বইপত্তর ও জামাকাপড় ছিল। ওই ক্যুরিয়ার সংস্থার অফিস সুরুলে ছিল। তাই আমার বাসভবন থেকে ওইসব জিনিসপত্র প্রথমে সুরুল, সেখান থেকে কলকাতায় গিয়েছে।’ কিন্তু বিলে তো কলকাতার নাম ছিল না? জবাবে বিদ্যুৎবাবু বলেন, ‘অসঙ্গতি থাকলে সেই বিল ছাড়ল কেন? এনিয়ে অহেতুক কাদা ছোড়াছুঁড়ি হচ্ছে। 
 ‘পূর্বিতা’য় থাকতেন প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎবাবু। চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে বাসভবন ছাড়তে হয়েছে। সেখানে থাকা সমস্ত সামগ্রীও নিয়ে যেতে হয়েছে একটি ক্যুরিয়র ও লজিস্টিক সার্ভিসের মাধ্যমে। বিদ্যুৎবাবুর পাঠানো সেই বিলই গত দু’বছর ধরে আটকে রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎবাবুর পর বিশ্বভারতীতে তিনজন উপাচার্য বদল হয়েছে। কিন্তু, ‘বিতর্কিত’ বিল কেউই ছাড়েননি। সম্প্রতি সেই বিল মেটানো হয়েছে। 
রাজ্যের মিনি ট্রাক সংগঠনের এক কর্মকর্তা বলেন, এই পরিমাণ সামগ্রী গাড়িতে তুলে দেওয়া ও নামানোর জন্য শ্রমিকের পারিশ্রমিক বাবদ দু’হাজার টাকা দিলেই হয়। যে ক্যুরিয়র ও লজিস্টিক সার্ভিসের মাধ্যমে ওইসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল সেখানকার এক কর্মীকেও একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। বিশ্বভারতীতে জমা দেওয়া বিদ্যুৎবাবুর বিলটি খতিয়ে দেখে সেই কর্মী বলেন, আমাদের হিসেবে এই সামগ্রীর জন্য কেজি প্রতি ১২ টাকা করে নেওয়া হয়। অর্থাৎ, বড়জোর পাঁচ হাজার টাকা লাগার কথা। 
বিশ্বভারতীর জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষও এই ‘বিতর্কিত’ বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিশ্বভারতীর এক অধ্যাপক বলেন, বর্তমান উপাচার্য এখনও পর্যন্ত একাধিক অধ্যাপকের বেতন এবং পেনশন আটকে রেখেছেন। সেইসব টাকা তিনি ছাড়ছেন না। অথচ, এত অসঙ্গতিপূর্ণ বিল ছেড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্বভারতীর এক আধিকারিক বলেন, বিল আইন মেনে হয়েছে। তাই টাকা ছাড়তে হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ