বিশাখাপত্তনম: প্রথম দু’ম্যাচে দাপুটে জয়। মহিলাদের বিশ্বকাপের শুরুটা ভালোই হয়েছিল ভারতের। কিন্তু তারপরই ঝটকা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩ উইকেটে পরাজয়ে ফুটে উঠেছে একগুচ্ছ সমস্যা। চাপের বোঝা মাথায় নিয়ে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে হরমনপ্রীত ব্রিগেড। কারণ, প্রথম চার দলের মধ্যে থাকার লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্টে থাকা অজিরা তুলনায় স্বস্তিতে। ভারতের পরের দুটো ম্যাচ যথাক্রমে ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এই দুটো দলও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই হরমনপ্রীত কাউরদের অবিলম্বে জয়ের সরণিতে ফেরা আবশ্যক।
সেই পথে অবশ্য টপ অর্ডারের ক্রমাগত ব্যর্থতা, পেস বোলারদের তীক্ষ্ণতার অভাব, ষষ্ঠ বিশেষজ্ঞ বোলারের অনুপস্থিতি কাঁটার মতো বিঁধছে। স্মৃতি মান্ধানার তিন ম্যাচে সংগ্রহ মাত্র ৫৪ রান। অথচ, তিনিই ব্যাট হাতে দলের সেরা ভরসা। বিশ্বকাপের আগেও ছিলেন সেরা ফর্মে। কিন্তু আসল মঞ্চেই ছন্দহীন দেখাচ্ছে তাঁকে। ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীতের অবস্থা আরও করুণ। তিন ইনিংসে পঞ্চাশও পেরতে পারেননি তিনি। আর এক তারকা, জেমাইমা রডরিগেজও ফর্ম হাতড়াচ্ছেন। তিন ইনিংসে করেছেন ৩২। ওপেনার প্রতীকা রাওয়াল (১০৫) ও তিনে নামা হারলিন দেওল (১০৫) রান পেলেও কেউই এখনও পঞ্চাশ পেরননি। সেট হয়েও উইকেট ছুড়ে দিয়েছেন তাঁরা।
ফলে প্রতি ম্যাচেই চাপে পড়ে যাচ্ছে ইনিংস। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে যেমন ১০২ রানে পড়ে গিয়েছিল ছয় উইকেট। শ্রীলঙ্কা (১২৪-৬) ও পাকিস্তান (১৫৯-৫) ম্যাচেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। লড়াকু লোয়ার অর্ডারের জন্য মান্ধানাদের ব্যর্থতা সেভাবে আলোকিত হয়নি। রিচা ঘোষ (তিন ইনিংসে ১৩১ রান), দীপ্তি শর্মা (তিন ইনিংসে ৮২ রান), স্নেহ রানারা (তিন ইনিংসে ৮১ রান) নাছোড়বান্দা মানসিকতার পরিচয় রেখেছেন। রিচা তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একার ব্যাটেই ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দেন দলকে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাকে মর্যাদা জানাতে পারেননি সতীর্থরা।
ভারত প্রতি ম্যাচেই খেলছে পাঁচ বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে। অজিদের বিরুদ্ধে বাড়তি স্পিনার নিয়ে খেলার ভাবনা তাই থাকছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে হারলিন বা জেমাইমার মধ্যে কাউকে বসতে হবে। ব্যাটিংয়ের যা দৈন্যদশা, সেই ঝুঁকি নেওয়া মুশকিল। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণও তীক্ষ্ণ। হরমনপ্রীত অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, ‘অজিদের বিরুদ্ধে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। দলের সবাই ওদের বিরুদ্ধে সেরাটা মেলে ধরতে উদগ্রীব।’ অজি ক্যাপ্টেন অ্যালিসার গলাতেও আগ্রাসন, ‘ভারত যে আমাদের হারাতে কতটা মরিয়া, তা অজানা নয়। আর আমরাও একইরকম তাগিদ অনুভব করছি জেতার জন্য।’
ম্যাচ শুরু বিকেল ৩টেয়। সরাসরি সম্প্রচার স্টার স্পোর্টসে।