সংবাদদাতা, মানকর: বর্ধমানের রাজ পরিবারের উদ্যোগে শুরু হয় আউশগ্রাম-২ ব্লকের ছোটরামচন্দ্রপুরের রাস উৎসব। এবারও কয়েকশো বছরের পুরনো রাসে মেতে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাসের সময় সারা বছরে একদিন দেবতাকে রাধাবল্লভ মন্দির থেকে বাইরে আনা হয়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মন্দির সংলগ্ন রাসমঞ্চে। বৃহস্পতিবার থেকেই রাসকে কেন্দ্র করে এলাকা উৎসব মুখর হয়ে ওঠে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ধমানের রাজাদের উদ্যোগে হওয়া এই উৎসবের আড়ম্বর ছিল দেখার মতো। অধিকারী পরিবার দেবতার সেবায়েত নিযুক্ত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ধনপতি অধিকারী বলেন, আমাদের আদি নিবাস ছিল বর্ধমানের নবাবহাটে। বর্ধমানের রাজারা আমাদের পূর্বপুরুষকে এই এলাকার জমিদারি দিয়েছিলেন। সঙ্গে রাধাবল্লভের মূর্তি দিয়েছিলেন সেবা করার জন্য। নিয়মিত খোঁজ নিতেন দেবতার সেবা যথাযথ হচ্ছে কি না। সেই সময় মন্দিরে দেবতার জলের সমস্যার কথা শুনে তাঁরা গ্রামে একটি পুকুর কাটিয়ে দেন। ‘গাঁ পুকুর’ নামে ওই জলাশয়ের জল আজও দেবতার কাজে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, প্রাচীন রীতি মেনে দেবতার অভিষেক, অধিবাস ইত্যাদি নানা পুজোর অঙ্গ পালিত হয়। পুজোর সঙ্গে যুক্ত বিজু অধিকারী, দয়াময় গণ বলেন, রাস উৎসবের দিন বছরে একবারই দেবতা মন্দির থেকে বের হন। তাঁকে নিয়ে আসা হয় রাসমেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে বিশেষ পুজোর ব্যবস্থা থাকে। তবে দেবতা মেলাপ্রাঙ্গণে রাত্রিবাস করেন না। পুজো শেষে ফেরানো হয় মন্দিরে। সারা বছর দেবতাকে অন্নভোগ দেওয়া হয়। রাসের সময় বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ দিয়ে ভোগ সাজানোর রীতি রয়েছে।



