সংবাদদাতা, মানকর: কাছেপিঠে কোনও হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ছিল না। স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে জামতাড়া অথবা প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যেতে হতো। আউশগ্রাম-২ ব্লকের এড়াল পঞ্চায়েতের সর এলাকার বাসিন্দারা তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়তে জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু সর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখনও ইন্ডোর পরিষেবা চালু হয়নি। ফলে সমস্যা একইরকম রয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণ, অন্য এলাকায় সরকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ার জমি পায় না। অথচ এখানে এলাকার মানুষই এগিয়ে এসে জমি দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইন্ডোর পরিষেবা চালু হয়নি। পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। সিপিএম আমলে এই এলাকায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির কথা ওঠে। এত বড় হাসপাতাল গড়তে জমি প্রয়োজন। স্থানীয় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মুন্সি, কলাইঝুঁটি রূপমঞ্জরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিরিধর পালের চেষ্টায় গ্রামবাসীরাই জমি দিতে এগিয়ে আসেন। এলাকার বাসিন্দা পার্থ দত্ত বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র হলে বিপদে-আপদে আর দূরে যেতে হবে না। কিন্তু সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনও আসন্নপ্রসবাদের প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে জামতাড়া হাসপাতালে নিয়ে যেতে হচ্ছে। জরুরি ক্ষেত্রে বর্ধমান নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সেটাও প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। পথে গলসিতে লেভেল ক্রসিং পেরোতে হয়। রেলগেট বন্ধ থাকলে অশেষ দুর্গতি পোহাতে হয়। সর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এখন ইন্ডোর পরিষেবা না থাকলেও আউটডোর চালু রয়েছে। সেখানে রোজ গড়ে ৫০জন রোগী হয়। সর গ্রামের পাশাপাশি বৃন্দাবনপুর, মালদেপাড়া সহ নানা গ্রামের মানুষ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভর করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, জরুরি রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসাটুকুও মেলে না। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এতখানি জায়গা এখন বৃক্ষরোপণ করে ভরাতে হচ্ছে। আমরা প্রথমে শুনেছিলাম, ১০০ শয্যার হাসপাতাল হবে। পরে শুনলাম এখানে ৫০ শয্যার ও অন্য এক জায়গায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে।স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার বলেন, ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বাম আমলে হয়েছিল। তখন থেকেই পড়ে রয়েছে। আমি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। সমস্যা মিটলে খুশি হব।



