Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আউশগ্রামে শাবল মেরে মা’কে খুনের অপরাধে বাবা জেলে, দুই শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন 

আউশগ্রামে শাবল মেরে মা’কে খুনের অপরাধে বাবা জেলে, দুই শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন 
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: ‘আমার মা কই? দুধ খাব।’ এমন আর্তি নিয়ে সমানে কেঁদে চলেছে ছোট্ট শিশুকন্যা। দিদিমার কাছে খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো করছে না সে। সারাদিনই মায়ের জন্য আর্তনাদ করছে দুই শিশু। আউশগ্রামে চোখের সামনে মাকে খুন হতে দেখেছে ছোট দুই শিশুকন্যা। শাবল দিয়ে মাকে পিটিয়ে খুন করেছে বাবা। মাকে মেঝেতে মাটি চাপা দিতে দেখেছে তারা। ছোট দুই শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিদিমা মিলন মাণ্ডি। দেওয়ানদিঘি থানা এলাকার মিলনদেবী বলেন, লোকের বাড়িতে বাসন মেজে সংসার চলে। আমার বয়স হয়েছে। আমাকে দেখারই কেউ নেই। কীভাবে ওদের মানুষ করব ভেবে পাচ্ছি না। 
Advertisement
উল্লেখ্য, আউশগ্রামের যদুগড়িয়াতে ছোট দুই মেয়ের সামনেই শাবল দিয়ে পিটিয়ে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। তারপর দু’দিন ধরে স্ত্রীর মৃতদেহ কাপড়, প্লাস্টিকে জড়িয়ে ঘরের মেঝেতে গর্ত করে পুঁতে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে পুলিস ঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে লক্ষ্মী হাঁসদা নামে বছর ২৭-এর ওই বধূর দেহ উদ্ধার করে। স্বামী সোম হাঁসদাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। 
দেওয়ানদিঘি থানার জুনড়া গ্রামে লক্ষ্মীর বাপেরবাড়ি। এক কঠুরি বাড়িতে শুধু তাঁর মা থাকেন। সেখানেই আপাতত দিদিমার কাছে লক্ষ্মীর দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়েটির ছ’বছর বয়স। সে আউশগ্রামের একটি স্কুলে পড়ে। আর ছোট শিশুকন্যার বয়স মাত্র তিন বছর। দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে আতান্তরে পড়েছেন বৃদ্ধা মিলনদেবী। তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে শুধু বড় সোনামণি হেমব্রম জীবিত রয়েছেন। তিনি স্বামীর ঘরে থাকেন। মিলনদেবীর কোনও পুত্রসন্তান নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়েদের বিয়ে দিয়ে একা থাকেন। তিনি বলেন, আমার নিজেরই দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। তার উপর ছোট দুই নাতনিকে নিয়ে আমি কী করব ভেবে পাচ্ছি না। সমানে ছোট নাতনি কেঁদে চলছে। সে শুধু মা-কে খুঁজছে। দুধ খেতে চাইছে। আমরাও ওর কান্না শুনে থাকতে পারছি না। সোম যে এমন নৃশংসভাবে আমার মেয়েটাকে মেরে দেবে তা কল্পনাও করতে পারিনি।
বর্ধমান সদর উত্তরের মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রশাসনিকভাবেও মেয়ে দু’টিকে কোনও হোমে রাখা যায় কিনা তা দেখব। সাংসদ চিকিৎসক শর্মিলা সরকার বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এখন দুই শিশু কন্যারই কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছেন। পরিবারের লোকজনদের খেয়াল রাখতে হবে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সোম মাদকাসস্ত। সে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মদের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। স্ত্রী লক্ষ্মী প্রতিবাদ করলেই জুটত বেধড়ক মার। বাড়িতে শাবল দিয়ে মেরে খুন করা সত্ত্বেও প্রতিবেশীরা কেউ টেরই পেলেন না কেন? প্রতিবেশীদের একাংশ জানান, ওদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া চলে।
সম্পর্কিত সংবাদ