সংবাদদাতা, মানকর: বাংলার প্রথম মহিলা চিকিৎসক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছিলেন কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়। তবে তাঁরও আগে ছিলেন আউশগ্রামের মহিলা চিকিৎসক হটু বিদ্যালঙ্কার। আউশগ্রাম-২ ব্লকের কলাইঝুঁটি গ্রামের এই নারী ছিলেন বহু শাস্ত্রে পারদর্শী। তাঁর জ্ঞানের স্বীকৃতি হিসেবে লাভ করেছিলেন ‘বিদ্যালঙ্কার’ উপাধি। ব্লক প্রশাসনের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা আর্জি জানিয়েছেন গ্রামে রূপমঞ্জরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওই বিদূষী মহিলার পূর্ণবয়াব মূর্তি স্থাপন করা হোক। না হলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যাবেন হটু বিদ্যালঙ্কার।
Advertisement
১৭৭৫ সালে হটু বিদ্যালঙ্কারের জন্ম হয় কলাইঝুঁটিতে। নাম রাখা হয় রূপমঞ্জরী। বাবা নারায়ণ দাস মেয়ের মেধার পরিচয় পেয়ে বাল্যবিবাহ দেননি। পরিবর্তে সাহিত্য, ন্যায়, চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পার্শ্ববর্তী সর গ্রামে আচার্য গোকুলানন্দ তর্কালঙ্কারের কাছে চিকিৎসাশাস্ত্রের অধ্যয়ন করেন রূপমঞ্জুরী। গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা প্রাক্তন শিক্ষক সৌরেন্দ্রনাথ কোনার বলেন, বাবার পিণ্ডদান করতে উনি গয়া গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কাশী যান। পরে নিজের টোলও খুলেছিলেন। তাঁর কাছে বহু পড়ুয়া আসত। আমার ছোটবেলায় শুনেছিলাম তিনি পুরুষের ন্যায় মস্তক মুণ্ডন করতেন। শিখা ধারণ করতেন। ধুতি, উত্তরীয়, চাদর ব্যবহার করতেন।
গ্রামের বাসিন্দা দেবদত্ত কোনার বলেন, ‘সাহিত্য সাধক চরিতমালায়’ হটু বিদ্যালঙ্কারের কথা লিখেছেন ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। কথিত আছে কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের ঠাকুমা একবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন হটু বিদ্যালঙ্কার তাঁর প্রাণরক্ষা করেন। এই ঘটনা ব্রজকিশোর বসুর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করেন।
কোনার পরিবার সূত্রে জানা যায়, গ্রামে রয়েছে রূপমঞ্জুরী প্রাথমিক বিদ্যালয়। পঞ্চাশের দশকে এই বিদ্যালয় তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে বিদ্যালয়ের জমিদাতা রাধারানি কোনারের নামে বিদ্যালয়ের নামকরণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা জানান কলাইঝুঁটি গ্রাম রূপমঞ্জরীর জন্মস্থান। বিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে রূপমঞ্জুরী নাম সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন।গ্রামের বাসিন্দা দেবদত্ত কোনার বলেন, ‘সাহিত্য সাধক চরিতমালায়’ হটু বিদ্যালঙ্কারের কথা লিখেছেন ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। কথিত আছে কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের ঠাকুমা একবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন হটু বিদ্যালঙ্কার তাঁর প্রাণরক্ষা করেন। এই ঘটনা ব্রজকিশোর বসুর মনে গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি নারী শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করেন।
গ্রামের বাসিন্দা দীপঙ্কর সেনাপতি বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। গ্রামের গৃহবধূ অদিতি কোনার বলেন, এক নারী চিকিৎসক ও শিক্ষক হিসেবে তাঁর ঈর্ষণীয় সাফল্যকে সেই সময়ের বাংলা কুর্নিশ জানিয়েছিল। মূর্তি নির্মাণ হলে ভালো হয়। আউশগ্রাম-২ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র



