Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আউশগ্রামে মহিলাদের নামে ঋণ নিয়ে প্রতারণা

আউশগ্রামে মহিলাদের নামে ঋণ নিয়ে প্রতারণা
  • ১ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রামে মহিলাদের নামে গোষ্ঠী তৈরি করে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল। বিভিন্ন মাইক্রো ফাইনান্স সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হতো। গ্রামেরই দু’টি পরিবারের বিরুদ্ধে মহিলারা দল বেঁধে আউশগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। গ্রামের ২১ মহিলার নামে মোট ৩৭ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য সরকারি ভাবে গোষ্ঠী তৈরি করে ঋণ দেওয়ার প্রকল্প চালু রয়েছে। আবার বেশ কিছু মাইক্রো ফাইনান্স সংস্থাও একই কায়দায় ঋণ দেয় গ্রামের মহিলাদের। তবে মাইক্রো ফাইনান্স সংস্থাগুলিতে সুদ সহ ঋণের টাকা প্রতি সপ্তাহে কিস্তিতে জমা নেওয়া হয়। প্রথম ধাপে ৪০ হাজার টাকা করে মহিলাদের ঋণ দেওয়া হয়। সেই ঋণ পরিশোধ করলে আরও ঋণ পাওয়া যায়। আউশগ্রামে ’দুটি পরিবার এভাবে গ্রামের বেশকিছু মহিলাকে নিয়ে গোষ্ঠী তৈরি করে। তারপর বিভিন্ন মাইক্রো ফাইনান্স সংস্থার শাখায় তাঁদের নিয়ে যাওয়া হতো টোপ দিয়ে। তাঁদের নামে ঋণ তোলা হতো। মহিলাদের নামে ঋণ তোলা হলেও তাঁদের টাকা দেওয়া হতো না। ওই দু’টি পরিবার সেইসব টাকা আত্মসাত করেছে বলে অভিযোগ। কারও নামে আড়াই লক্ষ টাকা, কারও নামে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঋণের কিস্তি না মেটানোর জন্য সংস্থার লোক এসে মহিলাদের চাপ দিতে থাকেন। তারপরেই প্রতারণার কথা জানা যায়। শেষমেশ তাঁরা পুলিসের দ্বারস্থ হন।
Advertisement
আউশগ্রাম থানায় ঝর্না আঁকুড়ে নামে এক মহিলা লিখিত অভিযোগ করে কোন মহিলার নামে কত টাকা কোন কোন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ তুলে আত্মসাত করা হয়েছে তার বিবরণ দিয়েছেন পুলিসকে। ঝর্না আঁকুড়ে লিখিত অভিযোগে পুলিসকে জানিয়েছেন,  গ্রামের চন্দ্রশেখর শর্মা ও দীপক শর্মা দুই ভাই। এক ভাইয়ের লেদ কারখানা, অন্য ভাই কাঠের কাজ করেন। চন্দ্রশেখরের স্ত্রী অঞ্জনা শর্মা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের টাকার টোপ দিত। মহিলারা সরল বিশ্বাসে ওদের ফাঁদে পা দেন। ঝর্না আঁকুড়ে বলেন, আমাদের বলেছিল ঋণ নিয়ে ওরাই কিস্তি পরিশোধ করবে। তার বিনিময়ে আমাদের সংসারে বাড়তি আয়ের জন্য কিছু পয়সা দেবে। প্রথম প্রথম ওরা ঠিক সময়ে কিস্তি দিত। কয়েক মাস ধরে আর কিস্তি দেয়নি। আমার নামে দু’ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে। গ্রামের লক্ষ্মী হেমব্রমের নামে দু’ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে। এভাবে গ্রামে বহু মহিলার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ তুলে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে। ব্যাঙ্কের লোকও জানত যে ঋণের টাকা আমাদের নামে তোলা হলেও আমরা টাকা পেতাম না। কিন্তু সব জেনেও এখন ব্যাঙ্কের লোকজন ওদের ছেড়ে আমাদের বাড়িতে এসে ঝামেলা করছে। শিখা আঁকুড়ে, নমিতা বাগদি, রীনা কর্মকার সহ মহিলারা তদন্ত করার দাবি তুলেছেন। আউশগ্রাম থানার পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। ও দীপকের স্ত্রী হীরা শর্মা, চন্দ্রশেখরের দুই ছেলে রাকেশ ও বিশালের নামেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ