নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় মাথাব্যাথা বেড়েছে প্রশাসনের। ১৮ বছরের আগেই অনেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসে গর্ভবতী হয়ে পড়ছে। প্রসব হওয়ার সময় অনেকের মৃত্যুও হচ্ছে। সেই কারণে নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। আধিকারিকদের চোখে ধূলো দিতে নাবালিকাদের অভিভাবকরাও কৌশল নিচ্ছেন। নিজের বাড়িতে বিয়ের আসর বসালে প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছাতে পারে। সেই কারণে তারা গোপন ডেরায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিচ্ছে। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হল না। মঙ্গলবার রাতে আউশগ্রাম থানার ভালকি পঞ্চায়েতের কুলডিহা এবং বেরেণ্ডার সেলুট গ্রামে গোপন ডেরায় পৌঁছে পুলিস দুই নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে। দু’জনেরই ওই রাতে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। দুটি পরিবারকেও আধিকারিকরা সতর্ক করেছেন। ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, ১৮ বছরের আগে কখনই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কেউ গোপনে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আউশগ্রামে নাবালিকাদের বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেতুগ্রাম, আউশগ্রামের মতো ব্লকগুলিতে নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি। কেতুগ্রামে বিয়ের পর ২৭ শতাংশ নাবালিকা গর্ভবতী হয়েছেন। এই পরিসংখ্যান যথেষ্টই উদ্বেগের বলে আধিকারিকদের দাবি। পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, রাজ্য সরকার মেয়েদের জন্য কন্যাশ্রী, রূপশ্রীর মতো বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। তারপরও যেসব পরিবার নাবালিকাদের বিয়ে দিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাবালিকাদের বিয়ে রোধ করার জন্য কন্যাশ্রী ক্লাবগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরও নজরদারি রাখছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ফোন করে বিষয়টি প্রশাসনকে জানাতে পারেন। তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। অনেক পরিবার প্রশাসনের চোখে ধূলো দেওয়ার জন্য নিজেদের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান করছেন না। তাঁরা কোনও আত্মীয়র বাড়িতে গিয়ে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছেন।



