সংবাদদাতা, মানকর: প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে কার্তিক মাসজুড়ে আকাশপ্রদীপ জ্বালানোর প্রথা। একসময় আউশগ্রাম, গলসির গ্রামগুলিতে সন্ধ্যার পর এই প্রথা পালন করা হতো। ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে ভূমিতল থেকে অনেকটা উঁচুতে একটি লম্বা বাঁশের সঙ্গে তা বেঁধে রাখা হতো। পরদিন সকালে তা নামিয়ে আনা হতো। এখন প্রবীণদের আক্ষেপ, নতুন করে কেউ আর এসব পালন করছে না। তাই বাঙালির জীবন থেকে এই প্রথা হারিয়ে যেতে বসেছে।
Advertisement
আউশগ্রামের সত্তর বছর বয়সি বৃদ্ধা সত্যবালা চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা ছোটবেলায় লণ্ঠনের মতো বাক্স করে বাঁশের উপরে সেটা বেঁধে দিতাম। অনেকে পাট কাঠি দিয়ে তৈরি বাক্স কিনে আনত।
কপিকলের মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে সন্ধ্যায় ওঠানো ও সকালে নামানো হতো। কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হতো। কিন্তু আগে যা ঘরে ঘরে হতো এখন সেই রেওয়াজ নেই বললেই চলে।
আকাশপ্রদীপ তোলার সময় একাধিক ছড়া বলা হতো। যেমন, দাদুর ঘরে নাতি/ স্বর্গে দিলাম বাতি, / উপরের দিকে চেয়ে দেখো / লক্ষ্মী সরস্বতী। ভাতকুন্ডার সুমন মণ্ডল বলেন, স্থান ভেদে আকাশপ্রদীপ কোথাও ফানুস, কোথাও স্বর্গবাতি নামে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান ব্যস্ততম জীবন বাংলার এই নিজস্ব সংস্কৃতিকে খেয়ে ফেলছে। এই প্রথা পালনের সময় আকাশের দিকে তাকাতে হয়। উদার আকাশ না দেখলে মনও উদার হয় না। একই সঙ্গে পূর্ব পুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যায় এই প্রথায়।
কিন্তু কেন এই প্রথা পালন করা হয়? প্রবীণরা জানান, কথিত আছে মহালয়ার দিন যে পূর্বপুরুষরা বর্তমান বংশধরদের হাতে জল পেতে পৃথিবীতে নেমে আসেন, ওই আলো আবার তাঁদের আকাশের ঠিকানায় পৌঁছে যেতে সাহায্য করে। তবে ভিন্নমতে এই সময় ভগবান বিষ্ণুর যোগনিদ্রা ত্যাগের সময়কাল। তা স্মরণে রাখতেই আকাশপ্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ। মানকরের মারো গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, লাল, নীল কাগজ দিয়ে খাঁচা তৈরি করে প্রদীপ জ্বালানো হতো। ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালতে না পারলে অনেকে তেলের প্রদীপও দিতেন। কিন্তু এখন এই প্রথা লুপ্ত হতে চলেছে। নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসছে না। আমরা নতুন করে কাউকে এই প্রথা পালন করতে দেখছি না। হারিয়ে যাচ্ছে পিতৃপুরুষদের স্মরণ করার মন ও মানসিকতা।
কপিকলের মতো দড়ি দিয়ে বেঁধে সন্ধ্যায় ওঠানো ও সকালে নামানো হতো। কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকে শুরু হতো। কিন্তু আগে যা ঘরে ঘরে হতো এখন সেই রেওয়াজ নেই বললেই চলে।
আকাশপ্রদীপ তোলার সময় একাধিক ছড়া বলা হতো। যেমন, দাদুর ঘরে নাতি/ স্বর্গে দিলাম বাতি, / উপরের দিকে চেয়ে দেখো / লক্ষ্মী সরস্বতী। ভাতকুন্ডার সুমন মণ্ডল বলেন, স্থান ভেদে আকাশপ্রদীপ কোথাও ফানুস, কোথাও স্বর্গবাতি নামে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান ব্যস্ততম জীবন বাংলার এই নিজস্ব সংস্কৃতিকে খেয়ে ফেলছে। এই প্রথা পালনের সময় আকাশের দিকে তাকাতে হয়। উদার আকাশ না দেখলে মনও উদার হয় না। একই সঙ্গে পূর্ব পুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যায় এই প্রথায়।
কিন্তু কেন এই প্রথা পালন করা হয়? প্রবীণরা জানান, কথিত আছে মহালয়ার দিন যে পূর্বপুরুষরা বর্তমান বংশধরদের হাতে জল পেতে পৃথিবীতে নেমে আসেন, ওই আলো আবার তাঁদের আকাশের ঠিকানায় পৌঁছে যেতে সাহায্য করে। তবে ভিন্নমতে এই সময় ভগবান বিষ্ণুর যোগনিদ্রা ত্যাগের সময়কাল। তা স্মরণে রাখতেই আকাশপ্রদীপ জ্বালানোর রেওয়াজ। মানকরের মারো গ্রামের বাসিন্দা সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, লাল, নীল কাগজ দিয়ে খাঁচা তৈরি করে প্রদীপ জ্বালানো হতো। ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালতে না পারলে অনেকে তেলের প্রদীপও দিতেন। কিন্তু এখন এই প্রথা লুপ্ত হতে চলেছে। নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসছে না। আমরা নতুন করে কাউকে এই প্রথা পালন করতে দেখছি না। হারিয়ে যাচ্ছে পিতৃপুরুষদের স্মরণ করার মন ও মানসিকতা।



