Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আউশগ্রাম দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যু বুঝতে পেরেই আত্মহত্যা মায়ের

আউশগ্রাম দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যু বুঝতে পেরেই আত্মহত্যা মায়ের
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কাটোয়া: দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন বৃদ্ধা মা। বুধবার আউশগ্রামের ছোড়া গ্রামের ওই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম বিশ্বজিৎ ঘোষ(৬০) ও লক্ষ্মীরানি ঘোষ(৭৫)। বুধবার ছেলের দাহকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার মায়ের দেহ দাহ করা হবে। পরিবারের দু’জনের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গ্রাম।
Advertisement
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ভাত খেয়ে বাইক চালিয়ে দুর্গাপুরে ডিউটিতে যাচ্ছিলেন বাসচালক বিশ্বজিৎবাবু। তিন যুবক বাইকে যাওয়ার সময় বিশ্বজিৎবাবুকে ধাক্কা মারে। বিশ্বজিৎবাবু ছিটকে পড়েন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বননবগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় বিশ্বজিৎবাবুর মৃত্যু হয়। বাড়ির লোকজন এদিন সকাল থেকেই বিশ্বজিৎবাবুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ব্যস্ত ছিলেন। মৃতদেহ নিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরতেই বিশ্বজিৎবাবুর মা বৃদ্ধা লক্ষ্মীরানি ঘোষের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর মৃতদেহ পুলিস ময়নাতদন্তে পাঠায়। 
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিশ্বজিৎবাবুরা তিন ভাই। তিনি সবার বড়। মেজ ভাই সুজিতবাবুর কাছেই লক্ষ্মীরানিদেবী থাকতেন। বিশ্বজিৎবাবুর স্ত্রী শিখাদেবী এদিন স্বামী ও শাশুড়ির মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তাঁর ছেলে ও মেয়েও এদিন বাবা ও ঠাকুমার মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশ্বজিৎবাবুর ভাই সুজিতবাবু কাঁদতে কাঁদতে বলেন, মা বড় দাদাকে খুব ভালোবাসত। দুর্ঘটনার খবর মা শুনেছিল। কিন্তু, মারা যাওয়ার কথা মাকে শোনানো হয়নি। পাড়ায় কেউ মারা গেলে রান্না করা হয়। সেই রান্না দেখে মা বুঝতে পেরেছিল, দাদা আর নেই। তাই মা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন। দাদার দেহ দাহ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মায়ের মৃতদেহ সৎকার করা হবে। এমনটা হবে আমরা ভাবতেই পারছি না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ