সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রামের পাণ্ডুকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ এক বধূ। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে বধূকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বামীর। সেই বধূর সঙ্গে তাঁর সাত বছরের ছেলেও রয়েছে। দেড় মাসেও সন্ধান করতে পারেনি পুলিস। এমনকী পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে বধূর স্বামীর কাছে। নাহলে তাঁর স্ত্রীকে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম বর্ধমানের ফরিদপুর থানার গৌড়বাজার এলাকার বাসিন্দা মেঘদূত পাণ্ডে আউশগ্রাম থানায় লিখিত অপহরণের অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি তাঁর অভিযোগে পুলিসকে জানান, ২৯ অক্টোবর কালীপুজোর সময় তিনি শ্বশুরবাড়ি আউশগ্রামের পাণ্ডুকে তাঁর স্ত্রী সুপর্ণা ও ছেলে অর্ঘ্যকে নিয়ে আসেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে মেঘদূতবাবু একদিন পরেই নিজের বাড়িতে ফিরে যান। এরপর গত ২ নভেম্বর তিনি ফোনে জানতে পারেন, তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন স্ত্রী। সেদিনই সুপর্ণাদেবীর বাবা কৃষ্ণেন্দু ঘোষাল আউশগ্রাম থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। মেঘদূতবাবু তাঁর লিখিত অভিযোগে পুলিসকে আরও জানান, তিনি নাকি সূত্র মারফত খবর পেয়েছেন, তাঁর স্ত্রীকে এয়ারপোর্টে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রীর কাছে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ টাকার গয়না ছিল। বুদবুদ থানা এলাকার মানস নন্দী ও তার বাবা হরিসাধন নন্দী এই অপহরণের পিছনে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাদের সাহায্যে করেছে আউশগ্রামের ওয়ারিশপুর গ্রামের দুই বাসিন্দা। তারা মানসের বন্ধু। মেঘদূতবাবুর অভিযোগ, ৮ ডিসেম্বর ওয়ারিশপুরের মানসের এক বন্ধু নাকি তাঁর মোবাইলে ফোন করে জানায় পাঁচ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিলে তবেই তাঁর স্ত্রী সহ ছেলের মুক্তি মিলবে। আর তা না হলে তাঁর স্ত্রীকে অন্যত্র পাচার করে দেওয়া হবে। ছেলেকে খুন করে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেওয়া হবে। এসব পুলিসের কাছে জানালে ফল ভালো হবে না। এরপরেই মেঘদূতবাবু আউশগ্রাম থানায় চারজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মেঘদূতবাবু বলেন, এখনও আমার স্ত্রী ও ছেলের খোঁজ পাইনি। আমরাও খুব চিন্তায় রয়েছি। আমার মনে হচ্ছে, এর সঙ্গে নারীপাচার চক্রের যোগ রয়েছে। পুলিস তদন্ত করলেই বের হবে। এদিকে আউশগ্রাম থানার পুলিস জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
মেঘদূতবাবু বলেন, এখনও আমার স্ত্রী ও ছেলের খোঁজ পাইনি। আমরাও খুব চিন্তায় রয়েছি। আমার মনে হচ্ছে, এর সঙ্গে নারীপাচার চক্রের যোগ রয়েছে। পুলিস তদন্ত করলেই বের হবে। এদিকে আউশগ্রাম থানার পুলিস জানিয়েছে, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।



