Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্রোতাদের নেই উৎসাহ, ফাঁকা মাঠে গলা ফাটালেন যোগী, উদয়নারায়ণপুর ও চাকদহে ফ্লপ বিজেপির নির্বাচনি সভা

ভোট প্রচারে ভিনরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এনে চমক দিতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু শত চেষ্টার পরও ভরল না মাঠ। সভা যে কার্যত ফ্লপ হচ্ছে বুধবার ফের তার প্রমাণ পাওয়া গেল।

শ্রোতাদের নেই উৎসাহ, ফাঁকা মাঠে গলা ফাটালেন যোগী, উদয়নারায়ণপুর ও চাকদহে ফ্লপ বিজেপির নির্বাচনি সভা
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কল্যাণী ও উলুবেড়িয়া: ভোট প্রচারে ভিনরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এনে চমক দিতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু শত চেষ্টার পরও ভরল না মাঠ। সভা যে কার্যত ফ্লপ হচ্ছে বুধবার ফের তার প্রমাণ পাওয়া গেল। এদিন হাওড়ার উলুবেড়িয়া ও নদীয়ার চাকদহে সভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দু’টি সভাতেই মাঠ ভরল না। গেরুয়া শিবিরের নেতারা বারবার অনুরোধ করলেও বহু মানুষ ফিরে গেলেন সভা শেষ হওয়ার আগেই।     

Advertisement

চাকদহের নবপল্লি গোরাচাঁদতলার মাঠে বিজেপি প্রার্থী বঙ্কিম ঘোষের সমর্থনে সভা করেন যোগী। সেখানে তেমন ভিড় ছিল না। যাঁরা এসেছিলেন, খোলা আকাশের নীচে বসে গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েন। সভা চলাকালীন অনেকে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান। মঞ্চ থেকে বারবার জনতাকে অনুরোধ করা হয় সামনে এসে বসার জন্য। সে কথায় কাজ হয়নি। যা ভাবাচ্ছে বিজেপি নেতাদের। 
এই অবস্থাতেই মঞ্চে উঠেন যোগী। তিনি বলেন, ‘এই মাটি দেশকে জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় স্তোত্র দিয়েছে। এখানে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ পরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হন। এই প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ‘ডবল ইঞ্জিন সরকার’-এর সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।  
এদিন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের সিংটি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠেও সভা করেন আদিত্যনাথ। সেখানেও মাঠ ভরেনি। যদিও জেলা বিজেপির সভাপতি দেবাশিস সামন্তর দাবি, গ্রীষ্মের দাবদাহ উপেক্ষা করে অনেক মানুষ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে এসেছিলেন। উদয়নারায়ণপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রভাকর পণ্ডিতের সমর্থনে সিংটি এসেছিলেন যোগী। মাঠের বেশ কিছুটা অংশ জুড়ে হেলিপ্যাড বানানো হয়েছিল। বাকি অংশে মঞ্চ বাঁধার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে তাঁদের মাথার উপর ছাউনির ব্যবস্থা ছিল না। দুপুর আড়াইটে নাগাদ যোগী আদিত্যনাথের সভাস্থলে আসার কথা ছিল। সেইমত কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি মানুষ মাঠে  আসতে শুরু করেছিলেন। যদিও রোদের কারণে এদিন অনেকে মাঠে নামতে চাননি। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে বিজেপি নেতৃত্ব আসরে নামায় কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি মানুষ মাঠে নামেন। কিন্তু গোটা মাঠ ভরতি হয়নি। অল্প সংখ্যক মানুষ নিয়ে জনসভা করেন যোগী আদিত্যনাথ। তবে লোক না হওয়ার সাফাই শোনা গিয়েছে যোগীর মুখে। তিনি অভিযোগ করেন, এখানে গুন্ডামি করে প্যান্ডেল করতে দেওয়া হয়নি। প্যান্ডেল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, সভায় প্যান্ডেল, মাইক দেওয়া যাবে না। আদিত্যনাথের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে উদয়নারায়ণপুরের তৃণমূল প্রার্থী সমীর পাঁজা বলেন, সভায় লোক হয়নি বলে এইসব অজুহাত খাড়া করছে। আসলে এটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা। এছাড়াও বড়বাজারে জোড়াসাঁকোর প্রার্থী বিজয় ওঝা, শ্যামপুকুরের প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, চৌরঙ্গি কেন্দ্রের প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের সমর্থনে সভা করেন  যোগী আদিত্যনাথ। সেখানেও সভার অধিকাংশ আসনই ফাঁকা ছিল। 

সম্পর্কিত সংবাদ