নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ১০ বছর পর খুলছে জলপাইগুড়ি চা নিলাম কেন্দ্র। ৩০ জুন (সেল নম্বর ২৬) থেকে শুরু হবে অকশন। আর প্রথমদিন নিলামের জন্য ১ লক্ষ ৫ হাজার ৮৫৩ কেজি চা এল, যা রেকর্ড বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, জলপাইগুড়ি নিলাম কেন্দ্র থেকে প্রথম দিন অকশনের জন্য যে চা এসেছে, তার পুরোটাই বটলিফ ফ্যাক্টরির। অর্থাৎ, ক্ষুদ্র বাগানের চা। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ক্ষুদ্র চা চাষিরা। তাঁদের দাবি, বটলিফ ফ্যাক্টরিগুলি ক্ষুদ্র বাগানের কাছ থেকে কাঁচা পাতা কিনে চা তৈরি করে। ফলে বটলিফের চা যত বেশি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হবে, দামে স্বচ্ছতা আসবে। ক্ষুদ্র চা চাষিরা কাঁচা পাতার ন্যায্য দাম পাবেন।
৩০ জুন, জলপাইগুড়ি নিলাম কেন্দ্র থেকে প্রথম দিন অকশনের জন্য বৃহস্পতিবারই টি বোর্ডের অনুমোদিত গোডাউনে চা ঢোকার শেষ সময়সীমা ছিল। সেই হিসেবে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ১ লক্ষ ৫ হাজার ৮৫৩ কেজি চা মজুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নর্থবেঙ্গল টি অকশন সেন্টারের সম্পাদক প্রতাপ রাউত। তিনি বলেন, প্রথম দিনের অকশনের জন্য যে পরিমাণ চা এসেছে, তাতে আমরা অভিভূত। ৩৫ জন বিক্রেতা প্রথম নিলামের জন্য চা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শিলিগুড়িতে গোডাউনে চা মজুত করার পর তা নিলাম হতে দেড় থেকে দু’মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। কিন্তু জলপাইগুড়িতে গোডাউনে চা মজুতের ১১ দিনের মধ্যে নিলাম হয়ে যাবে। এতেই বিক্রেতারা উৎসাহিত হচ্ছেন। তাছাড়া জলপাইগুড়ি নিলাম কেন্দ্র থেকে অকশন হওয়ার পর সাতদিনের মধ্যে যদি ক্রেতা দাম মেটান, সেক্ষেত্রে তিনি দুই শতাংশ ছাড় পাবেন।
জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, শিলিগুড়ি টি অকশন সেন্টারে বটলিফ অর্থাৎ ক্ষুদ্র বাগানের চায়ের গুরুত্ব কম ছিল। কার্যত ফেলে রাখা হতো বটলিফের চা। সেক্ষেত্রে নিলাম হতে অনেক দিন সময় লেগে যেত। জলপাইগুড়ি টি অকশন সেন্টারে বটলিফের চা গুরুত্ব পাবে বলে আমরা আশাবাদী।
এদিকে, চা বাগানে রোগপোকা দমনে নথিভুক্ত যেসব কীটনাশক রয়েছে, সেগুলি দিয়ে আদৌও কতটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে, তা জানিয়ে এদিন রাজ্যের শ্রমসচিব অবনীন্দ্র সিংকে চিঠি দেয় টি রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন। অভিযোগ, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চা বাগানে রোগপোকার উপদ্রব বাড়ছে। সেক্ষেত্রে নথিভুক্ত যে ৫৬টি ওষুধ রয়েছে, তা দিয়ে সবটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, রোগপোকা দমনে চায়ে যাতে দেদার কীটনাশক ব্যবহার না করা হয়, সেব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছে রাজ্য সরকার। এনিয়ে চা অধ্যুষিত জেলাগুলিতে টাস্ক ফোর্সও করে দেওয়া হয়েছে।