নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: খাবারের মান যাচাইয়ে এবার প্রশাসনের নজর ডুয়ার্সের রিসর্টে। একইসঙ্গে সমস্ত রিসর্টে ফুড লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীনের। অভিযোগ, ব্যাঙের ছাতার মতো হোটেল, রিসর্ট গড়ে উঠছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসছেন সেখানে। খাওয়াদাওয়া করছেন। কিন্তু ওইসব খাবারের মান কী তা অনেক সময়ই প্রশাসন তথা ফুড সেফ্টি দপ্তরের নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সমস্ত রিসর্টের প্রয়োজনীয় ফুড লাইসেন্সও রয়েছে কি না, সেটা নিয়েও অনেকটাই অন্ধকারে জেলা প্রশাসন। সেকারণে রাস্তার ধারের দোকানের খাবারের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি এবার ডুয়ার্সের হোটেল, রিসর্টগুলির হেঁশেলেও হানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফুড সেফ্টি দপ্তরকে।
জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, আমাদের জেলায় বিভিন্ন রেস্তরাঁয় বিশেষ করে রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে খাবারের মান যাচাইয়ে ফুড সেফ্টি দপ্তরের আধিকারিকরা অভিযান চালান। ফুড লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন তাঁরা। এবার ডুয়ার্সের হোটেল, রিসর্টগুলিতেও খাবারের মান কেমন রয়েছে, ফুড লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, রিসর্টগুলিতে খাবারের মান যাচাই ও ফুড লাইসেন্স খতিয়ে দেখার কাজে জোর দিতে বলেছেন জেলাশাসক। ফুড লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা করতে বলা হয়েছে। রিসর্ট বন্ধ করা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা চাই, যাতে সবাই নিয়ম মেনে চলে।
লাটাগুড়ি হোটেল অ্যান্ড রিসর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, এটা প্রশাসনের খুবই ভালো উদ্যোগ। সমস্ত রিসর্টের ফুড লাইসেন্স রয়েছে কি না কিংবা সেই লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হচ্ছে কি না, সে ব্যাপারে নিয়মিত পরিদর্শন হওয়া দরকার। তাছাড়া হোটেল, রিসর্টের রান্নাঘর কতটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, সেটাও খতিয়ে উচিত বলে মনে করি। তাঁর দাবি, আমাদের সংগঠনে যেসব হোটেল ও রিসর্ট মালিক রয়েছেন, তাঁরা সবাই ফুড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা করছেন এটুকু বলতে পারি। তাছাড়া খাবারের গুণগত মান, হেঁশেল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়েও আমাদের সংগঠনের তরফে নিয়মিত বলা হয়।
এদিকে, জেলাশাসক হোটেল, রিসর্টে খাবারের মান যাচাইয়ে অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিলেও ফুড সেফ্টি দপ্তরের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গোটা জলপাইগুড়ি জেলায় চারজন ফুড সেফ্টি অফিসার রয়েছে। এছাড়া জেলা সদরে রয়েছেন একজন ইন্সপেক্টিং অফিসার ও ফুড অ্যানালিস্ট রয়েছেন একজন। এই পরিকাঠামো নিয়ে কীভাবে সর্বত্র অভিযান সম্ভব? তার মধ্যেও যতটা সম্ভব অভিযান চালানো হচ্ছে। নিয়ম না মানায় একাধিক ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।