সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: অযোধ্যা পাহাড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নামে কেউ হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করলে, তা বরদাস্ত করা হবে না। যারা পাহাড়ের উন্নয়ন বন্ধ করতে চাইবে, তাদের জেলা পুলিসের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। জেলা পুলিসের একটি অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির বিষয়ে এমনই কড়া অবস্থানের কথা জানালেন পুরুলিয়ার পুলিস সুপার।
অযোধ্যা পাহাড়ের আনাচেকানাচে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করে। বেশিরভাগ সংস্থা বাইরে থেকে এসে এলাকার মানুষকে সাহায্য করার কথা বলে। কেউ কেউ সাহায্যের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের কাজেও শামিল হয়। অভিযোগ, সম্প্রতি পাহাড়ের বেশ কিছু এলাকায় একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করছে। এলাকার দীর্ঘদিনের শান্তির পরিবেশকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। গোপন সূত্রে একথা পুলিস জানতে পেরেছে। একাধিক জায়গায় আদিবাসীদের মধ্যে পুলিস প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনবরত প্রচার চালানোর খবরও এসেছে। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রাথমিকভাবে সাহায্য ও শিক্ষাবিস্তারের কথা বললেও পরে জায়গা দখলে নেমে পড়েছে বলে অভিযোগ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অযোধ্যা পাহাড়ে আসা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এই কড়া বার্তা দিলেন জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুলিস সুপার বলেন, অযোধ্যা পাহাড়ে এসে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দান করে। কিন্তু সেই দানের উপর নির্ভর করে অযোধ্যা পাহাড়ের মানুষ চলে না। আযোধ্যা পাহাড় এলাকার বাসিন্দারা ধীরে ধীরে নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন। অনেকে স্বনির্ভর হচ্ছেন। এজন্য প্রশাসন ও পুলিসের তরফে সবরকম সাহায্য করা হবে। কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাহায্য করার নামে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি মাসে ৮-১০হাজার টাকায় স্থানীয়দের দিয়ে অশান্তি পাকালে তা কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে।
এসপি জানান, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য যে কেউ বা যে কোনও সংস্থা আসতেই পারেন। কিন্তু পাহাড়কে পিছনে টেনে নিয়ে যাওয়া, অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলে তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। অযোধ্যা পাহাড়ে শান্তির জন্য এলাকার বাসিন্দাদের পরিশ্রম রয়েছে। পুলিসেরও অনেক রক্ত ঝরেছে। তাই আর রক্ত ঝরতে দেওয়া যাবে না।