নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘদিন পদে থাকায় কয়েকজন এলাকার ‘রাজা’ হয়ে উঠেছেন। সেসব নেতাকে ‘ব্যাকবেঞ্চে’ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শাসকদলের সহযোগী সংস্থা প্রতিটি ব্লকের নেতাদের সম্পর্কে রিপোর্ট রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জমা করেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। আউশগ্রাম, মন্তেশ্বর এবং মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে এই প্রবণতা বেশি। এই নেতাদের রাজ্য নেতৃত্ব একাধিকবার সতর্ক করেছে। কিন্তু জেলার কয়েকজন নেতার হাত তাঁদের মাথার উপর রয়েছে। সেকারণেই তাঁরা নিজেদের ‘রাজা’ ভাবতে শুরু করেছেন বলে কর্মীদের দাবি।
নিচুতলার কর্মীদের বক্তব্য, আউশগ্রামে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াই বহুদিন ধরে চলছে। মূলত এলাকা কার দখলে থাকবে তা নিয়েই লড়াই। ক্ষমতা যার হাতে সে পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির টেন্ডারের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া বালিঘাটের দখলও তার হাতেই থাকে। ক্ষমতা দখলের জন্য বারবার তারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বর কাছেও রিপোর্ট জমা পড়েছে। সেই মতো এই ব্লকেও নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ করবে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। মন্তেশ্বর ব্লকে কয়েক মাস ধরে বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে আহমেদ হোসেনের লড়াই তীব্র আকার নিয়েছে। বৃহস্পতিবার এলাকার মন্ত্রীর উপর হামলা হয়। অভিযোগের তির আহমেদের গোষ্ঠীর দিকে। সিদ্দিকুল্লা সাহেব বলেন, আমি অন্যায় কাজ সমর্থন করি না। তোলাবাজিতে বাধা দিয়েছি। সেকারণেই হামলা করেছে। তবে এভাবে আমাকে দমাতে পারবে না। আবার কর্মসূচি নেব। আহমেদ হোসেন অবশ্য দাবি করেন, এদিনের ঘটনার সঙ্গে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারি, রায়না এবং খণ্ডঘোষ এলাকাতেও কয়েকজন ‘রাজা’ হয়ে উঠেছেন। তাঁরা এলাকায় ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠেছেন। কর্মীদের দাবি, ওই নেতারা নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। তাতে দলের ক্ষতি হচ্ছে। এই নেতাদের পিছনের সারিতে পাঠিয়ে দিলেও দলের কোনও ক্ষতি হবে না। এক নেতা বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে সহযোগী সংস্থার কর্মীরা প্রতিটি নেতার সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করেছেন। পঞ্চায়েত স্তরের নেতাদের সঙ্গে তাঁরা আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। কেউ যদি ভাবেন আগের মতো চলবেন তাহলে ভুল করবেন। নেতৃত্ব সব নজর রাখছে। ২১জুলাইয়ের পর অনেকেই শিক্ষা পেতে পারেন। তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, নেতৃত্ব নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। যারা দলের ক্ষতি করছে তাদের ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। দলে শৃঙ্খলা থাকাটা জরুরি।