Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬

নেহরুর তৈরি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত ধ্বংসের চেষ্টা চলছে, গেরুয়া শিবিরকে তোপ সোনিয়ার, পাল্টা আক্রমণে বিজেপি

জওহরলাল নেহরুকে ‘অপমানিত’ করাই ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল লক্ষ্য। নেহরুকে শুধু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলাই ওদের লক্ষ্য নয়

নেহরুর তৈরি সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত ধ্বংসের চেষ্টা চলছে, গেরুয়া শিবিরকে তোপ সোনিয়ার, পাল্টা আক্রমণে বিজেপি
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৮:১২
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: জওহরলাল নেহরুকে ‘অপমানিত’ করাই ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল লক্ষ্য। নেহরুকে শুধু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলাই ওদের লক্ষ্য নয়। তাঁর তৈরি যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিতের উপর আমাদের দেশ গঠিত হয়েছে, সেই বুনিয়াদকে ধ্বংস করে দেওয়াই ওদের বাস্তব উদ্দেশ্য। গেরুয়া শিবিরকে এভাবেই তীব্র আক্রমণ করলেন সোনিয়া গান্ধী। কংগ্রেস নেত্রীর অভিযোগ, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথা ও রচনাগুলিকে বিকৃত করা হচ্ছে। দিল্লির জওহর ভবনে নেহরু সেন্টার ইন্ডিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোনিয়া বলেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর অবদানগুলি নিয়ে বিশ্লেষণ ও ইতিবাচক সমালোচনা স্বাগত। কিন্তু তাঁর কথা ও লেখাগুলির ইচ্ছাকৃত বিকৃতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সোনিয়ার এই আক্রমণের পর পালটা মাঠে নেমেছে বিজেপিও। বলেছে, নেহরুকে অসম্মান করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তাঁর ‘ভুল সিদ্ধান্তগুলি’ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে জনসমক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে মাত্র। বিজেপির কটাক্ষ, পণ্ডিতজি সম্পর্কে সত্যিই শ্রদ্ধাশীল হলে নেহরু পদবি গ্রহণ করা উচিত ছিল গান্ধী পরিবারের।

Advertisement

 
নাম না করে বিজেপি ও আরএসএসকে একহাত নিয়ে সোনিয়া বলেন,  নেহরুকে অপমান করাই ক্ষমতাসীন শিবিরের মূল লক্ষ্য। সেবিষয়ে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। ঘটনাচক্রে, ক’দিন আগেই নেহরু সম্পর্কে প্রবীণ বিজেপি নেতা রাজনাথ সিংয়ের একটি মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনাথের দাবি, পণ্ডিত নেহরু সরকারি অর্থে (অযোধ্যায়) বাবরি মসজিদ গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর সেই উদ্যোগ রুখে দিয়েছিলেন সর্দার প্যাটেল। কংগ্রেস তথা বিরোধী শিবির রাজনাথের মন্তব্যের বিরোধিতা করে দাবি তুলেছিল, মন্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে। সেই বিতর্ক ফিকে হওয়ার আগেই এবার নেহরু ইস্যুতে গেরুয়া শিবিরকে তুলোধোনা করলেন সোনিয়া গান্ধী। কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রীর তোপ, নেহরুকে অসম্মানের এই ‘প্রকল্পে’র নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলির স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও অবদান ছিল না। স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনাতেও তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না। ওই শক্তিগুলির মতাদর্শ বহুকাল আগেই বিদ্বেষের পরিবেশ গড়ে তুলেছিল। যার ফলশ্রুতি হিসেবেই মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করা হয়েছিল।


এর পালটা বিজেপি মুখপাত্র টম ভাদাক্কানের তোপ, বারবার পালে বাঘ পড়ার গল্প এবার বন্ধ করা উচিত। তিনি (সোনিয়া) যদি নেহরুর প্রতি সত্যিই শ্রদ্ধাশীল হতেন, তাহলে পারিবারিক বংশগতিতে নেহরু পদবি যুক্ত করতেন। বিজেপি বা বর্তমান সরকার নয়, বাস্তবে তাঁরাই নেহরুর অবদানগুলির অবমূল্যায়ন করেছেন। নেহরুর বদলে তাঁরা যদি এখনও গান্ধী পদবি ব্যবহারে আগ্রহী থাকেন, তাহলে কোথাও সমস্যা রয়েছে।        

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ