পাটনা, ২৯ জুন: জেদের অবশান। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বসবাসের পর অবশেষে ১০ সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো ছেড়ে দিচ্ছেন বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী। সোমবার বাংলো খালি করার সরকারি সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকায় রবিবার রাত থেকেই বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী সরানোর কাজ শুরু হয়েছে বাংলো থেকে।
আরজেডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাবড়ি দেবী ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ জিনিসপত্র পাটনার কৌটিল্য নগরে অবস্থিত তাঁদের ব্যক্তিগত বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলো থেকে সিসিটিভি ক্যামেরাও খুলে ফেলা হয়েছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ সার্কুলার রোডের এই সরকারি বাংলোটি সম্প্রতি মৎস্যমন্ত্রী নন্দ কিশোর রামের নামে বরাদ্দ করা হয়েছে। গত ২৭ মে ভবন নির্মাণ বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলোটি তাঁর নামে বরাদ্দ করে। এরপর রাবড়ি দেবী ও তাঁর পরিবারকে বাংলো খালি করার জন্য চার দফা নোটিস পাঠানো হয়। তারপরেই রীতিমত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন লালু পত্নী। সিদ্ধান্তে একদম অনড় থাকেন রাবড়ি দেবী। তিনি তখন মন্তব্য করেন ‘সম্রাট চৌধুরি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে খুবই উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন। আমাকে জোর করে উঠিয়ে দিক। আমি এই জায়গা ছেড়ে যাচ্ছি না।’ এমনকি সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে রেগে মাইকও সরিয়ে দেন তিনি।
সরকারি নির্দেশ অনুসারে সোমবারের মধ্যেই বাংলোটি সম্পূর্ণ খালি করে নতুন বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। এদিকে, রাবড়ি দেবীর জন্য ৩৯ হার্ডিঞ্জ রোডে নতুন সরকারি বাসভবন বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি বিহার সরকার আরজেডি প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব এবং বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেতা রাবড়ি দেবীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এক ধাপ কমিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন রাবড়ি দেবী এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব সামলান। ক্ষমতা হারানোর পর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছেড়ে ১০ নম্বর সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলোয় ওঠেন। গত প্রায় দুই দশক ধরে সেই বাংলোই ছিল রাবড়ি দেবী ও আরজেডি পরিবারের অন্যতম রাজনৈতিক কেন্দ্র। দলীয় বৈঠক থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা সবকিছুরই সাক্ষী ছিল এই ঠিকানা। পরবর্তীতে বিহার সরকার বাংলোটি উপমুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেত্রী হওয়ার সুবাদে রাবড়ি দেবীর জন্য হার্ডিঞ্জ রোডের ৩৯ নম্বর সরকারি বাসভবন বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে তিনি স্থানান্তরিত হচ্ছেন।