নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবারের দুপুর। অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা সরকারি ক্ষেত্রে রাজ্যের অন্যতম সেরা মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল— পিজি। এই সুযোগে পিজির মেইন ব্লকের সামনে রোগী পরিজনদের টার্গেট করেছিল এক ব্যক্তি। কয়েকদিন ধরেই হাসপাতাল চত্বরে এই ধরনের অভিযোগ উঠছিল। এদিন মোবাইল হাতাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে এক যুবক। এক রোগীর দাদার অভিযোগ, ‘আমার পকেটেই ছিল মোবাইল ফোন। সেটা ধরে টান দিচ্ছিল সে। সন্দেহ হওয়ায় তাকে পাকড়াও করলে নিমেষে ছড়িয়ে যায় খবর। তারপর চোর সন্দেহে জুটল বেধড়ক গণপিটুনি। পুলিশ এলেও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেনি। আটক যুবককে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে চলল বেধড়ক কিল, চড়, ঘুসি, লাথি। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠল এসএসকেএম হাসপাতাল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যুবকের পরনে ছিল সাদা জামা আর কালো প্যান্ট। একবার পিজির ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের সামনে, একবার আউটডোরের বাইরের সিঁড়িতে, কখনও মেইন ব্লকের বাইরে, কখনও আবার ক্যান্টিনের সামনে ইতস্তত ঘুরঘুর করছিল ওই যুবক। মেইন ব্লকের বাইরে গাছের তলায় এক ব্যক্তির পাশে বসে এক সময় গল্প জুড়ে দেয় সে। কথা বলতে বলতে প্যান্টের পকেটে থাকা মোবাইলে ধাক্কা দিতে শুরু করে অভিযুক্ত যুবক। ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, মোবাইল হাতানোর চেষ্টা করছে সে। এরপর দু’পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন কয়েকজন রোগীর পরিজনরা। তাঁদের দাবি, গত তিন-চারদিনে পিজির ভিতর থেকে বেশ কয়েকজনের মোবাইল গায়েব হয়েছে। এরপর মোবাইল চোর সন্দেহে তাকে বেধড়ক মারধর করেন উপস্থিত লোকজন। তৈরি হয় জনরোষ।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসএসকেএমের আউটপোস্টে বিষয়টি জানায়। ঘটনাস্থলে আসে ভবানীপুর থানার এক সার্জেন্ট। রোগীর পরিজনদের মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে যুবককে আটক করা হয়। কিন্তু, তার থেকে কোনও মোবাইল ফোন মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ ভ্যানে তোলার চেষ্টা করেন সার্জেন্ট। কিন্তু, সেই মুহূর্তে জনরোষ চরমে ওঠে। উর্দিধারীর হাত থেকে যুবককে ছিনিয়ে নিয়ে তার উপর চড়াও হন প্রায় ১০-১২ জন। মাটিতে ফেলে গণপিটুনি দেওয়া হয় তাকে। একের পর এক লাথি, ঘুসি যখন পড়ছে যুবকের পিঠে, মাথায়, কাঁধে, তখন নীরব দর্শক ওই উর্দিধারী।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিজনরা। জয়নগরের বাসিন্দা সোমনাথ মণ্ডল বলেন, ‘হাসপাতালের ভিতরে পুলিশের আউটপোস্ট রয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব হাসপাতাল চত্বরের নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো রাখা। কিন্তু, কোথায় কী! পুলিশকে তো দেখাই যায় না। নাহলে চোর, ছিনতাইবাজরা ভিতরে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে কীভাবে? কয়েকদিন আগে হাসপাতালের ভিতরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটল, তা সত্ত্বেও পুলিশি তৎপরতায় কোনও পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।’