নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বরানগরের নিষিদ্ধপল্লিতে এক মহিলাকে চপার দিয়ে কোপাতে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ গেল নিজেরই। ওই বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম শংকর মাহাত (৬৩)। আক্রান্ত মহিলা এখন আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শংকর মাহাত আগে বনগাঁয় থাকতেন। পরে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পতিতাপল্লিতে ঢুকে ওই বৃদ্ধ যখন মহিলাকে চপার দিয়ে কোপাচ্ছিলেন, সেই সময় অন্যান্য মহিলারা তাঁকে প্রতিহত করে। সেই সময় কেউ কেউ তাঁকে চড়-থাপ্পড়ও মারেন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, ওই বৃদ্ধকে মারধরের কোনও অভিযোগ বা তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
বরানগরের বনহুগলি লেবুবাগান বস্তির মধ্যেই রয়েছে নিষিদ্ধপল্লি। সেখানে এক প্রৌঢ়ার কাছে প্রায়ই আসতেন শঙ্কর মাহাত। ওই প্রৌঢ়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন মহিলা। বুধবার রাতে শংকর প্রৌঢ়ার কাছে আসেন। রাতে তাঁরা একঘরেই শুয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ওই প্রৌঢ়ার চিৎকারে পল্লির মহিলা ও স্থানীয়রা দৌড়ে আসেন। তাঁরা দেখেন, প্রৌঢ়া শংকরের হাত ছাড়িয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। পিছন থেকে চপার দিয়ে কোপ মারছেন শংকর। স্থানীয়রাই কোনওক্রমে ধরে ফেলেন শংকরকে। এরপর উত্তেজিত বাসিন্দারা তাকে এলোপাথারি চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। ওই সময় ধস্তাধস্তিতে শংকর মাটিতে পড়ে যান। এরপর দ্রুত ওই প্রৌঢ়াকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করানো হয়। মহিলার হাত ও মাথায় চপারের কোপ পড়েছে। অন্যদিকে, খবর পেয়ে বরানগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গুরুতর অসুস্থ শংকরকে উদ্ধার করে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই তাঁর মৃত্যু হয়। বারাকপুর কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রৌঢ়াকে আক্রমণের সময় বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। দু’জনকেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।