


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ট্রেনের পার্সেল ভ্যানে করে হাওড়া থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার নোটের বান্ডিল পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল বারাণসীতে। আরপিএফের তৎপরতায় ওই বিপুল টাকা উদ্ধার করা হয় হাওড়া স্টেশনে। পরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে জিআরপি। ধৃতের নাম টুনুকুমার যাদব। সে হাওড়ার বালি-জগাছার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৩৭ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। রেল পুলিশের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আয়কর দপ্তরও। এই বিপুল টাকা মূলত হাওলায় ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান রেল পুলিশের।
দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর হাওড়া স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি টাকা, সোনা, আগ্নেয়াস্ত্রের পাচার রুখতে জিআরপি ও আরপিএফ লাগাতার যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের কামরায়। বিপুল অংকের টাকা পাচার করা হচ্ছে— গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে গত শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্সে ‘অপারেশন সতর্ক’ অভিযানে নামে রেল পুলিশ ও আরপিএফ। সূত্রের খবর, সেদিন রাতে এক ব্যক্তিকে একটি ট্রলি ভ্যান ঠেলে ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মের শেষপ্রান্তের দিকে যেতে দেখা যায়। সেই ট্রলির উপর চারটি বড়ো পলিথিনের ব্যাগ ছিল। ওই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে অসংলগ্ন কথা বলে। তাতে সন্দেহ গাঢ় হয় পুলিশের। একটি পলিথিন ব্যাগ খুলতেই দেখা যায়, ভিতরে থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল। তা দেখে চোখ কপালে ওঠে রেল পুলিশের। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আরপিএফ অফিসে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। চারটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় মোট ৩৭ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। এরমধ্যে ১০, ২০, ৫০ এবং ১০০ টাকার বান্ডিল ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল ১০ টাকার নোট।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টুনু জানায়, বারাণসীর বাসিন্দা জনৈক রামস্বরূপ একটি ক্যুরিয়ার সংস্থা মারফত ওই পলিথিন ব্যাগগুলি অর্ডার করেছেন। ১৩০০৯ আপ দুন এক্সপ্রেসের পার্সেল ভ্যানে করে সেগুলি বারাণসীতে পাঠানোর কথা ছিল। রবিবার সকালে ট্রেন বারাণসী স্টেশনে পৌঁছলে ব্যাগগুলি তাঁকে হস্তান্তরের কথা ছিল। হাওড়া আরপিএফের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘পলিথিনের ব্যাগগুলির মধ্যে রেলের বুকিং মার্কার বা বারকোড স্লিপ কোনওটাই ছিল না। পার্সেল ভ্যানের দায়িত্বে থাকা কারওর সঙ্গে যোগসাজশ করে এই টাকা পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পার্সেল ভ্যানে করে টাকা পাচারের এমন ঘটনা হাওড়া স্টেশনে এই প্রথম বলে জানান তিনি। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে আয়কর দপ্তর। এই বিপুল টাকা হাওলায় খাটানো হতো কি না, তা জানানোর জন্য তদন্ত চালানো হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র